
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গুজরাটের একটি আদালতে গরু জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন মুসলিম ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করার সময় রায়ের পর্যবেক্ষণে পবিত্র মনুস্মৃতি এবং বৈদিক গ্রন্থ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি তুলে ধরেন বিচারক।
বিচারক তাঁর রায়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, গরু সাধারণ কোনো প্রাণী নয়। বরং এটি মানবজীবনের বস্তুগত সমৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ন্যায়পরায়ণতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ঋষি মনুর উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত জানান যে, গবাদিপশুর যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের সঠিক পরিচর্যা করার মূল দায়িত্বটি মূলত প্রাচীনকালে বৈশ্য সম্প্রদায়ের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া প্রাচীন বৈদিক সংস্কৃতির অন্যতম একটি রীতি হলো ‘আর্শ বিবাহ’। বিচারকের মতে, এই বিশেষ বিবাহের আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রেও একটি গরু এবং একটি ষাঁড়ের জুটির অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বেদসহ সনাতন ধর্মের অন্যান্য বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের তথ্য ও উদ্ধৃতি টেনে আদালত আরও ব্যাখ্যা করেন যে, প্রাচীনকালে তপস্যার বিশেষ শক্তির ফলে যখন পৃথিবীতে অমৃতের ফোঁটা পতিত হয়েছিল, তখন সেখান থেকেই দিব্য গাভি কামধেনুর আবির্ভাব ঘটেছিল।
এই কামধেনুকে পৃথিবীর তাবৎ গোবংশের মূল বা আদি উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিচারক তাঁর রায়ে আরও মন্তব্য করেন যে, গরুকে সামগ্রিকভাবে ‘জগতের জননী’ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে গণ্য করা হয়। হিন্দু ধর্মানুসারে গরুর শরীরে ৩৩ কোটি দেবতারা বসবাস করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
সবশেষে বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি গরুর যে চারটি পা রয়েছে, সেগুলোকে সনাতন ধর্মের পবিত্র চারটি বেদের সরাসরি প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা