
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসার পরপরই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বহুজাতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন। পুঁজিবাজারে লেনদেন সমাপ্ত হওয়ার পর মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের বাজারমূল্য সার্বিকভাবে ছয় শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক বিক্রির পরিমাণ এগারো শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সবমিলিয়ে ২০ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাজনের নগদ অর্থের পুঞ্জীভূত ঘাটতির পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।
এই পরিসংখ্যান সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, আমাজন তাদের মোট আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে ফেলছে। গত তিন মাসের ব্যবধানে তাদের এই অতিরিক্ত অর্থ খরচের সামগ্রিক গতি ছয় গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতেও আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি এই বিশাল ব্যয়কে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তাদের সামনে এমন দুটি সম্ভাবনাময় ব্যবসার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমাজনকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলার আয় করে দিতে পারে।
যদিও জ্যাসি তাঁর বক্তব্যে সেই নির্দিষ্ট দুটি ব্যবসার সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবুও বাজার বিশ্লেষকদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় তিনি আমাজনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে কম্পিউটার চিপ উৎপাদন ও বিপণন এবং তাদের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম ‘বেডরক’-এর প্রভূত আর্থিক সম্ভাবনার বিষয়টি বারবার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
আমাজনের এই রেকর্ড পরিমাণ অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলে প্রধান নির্বাহী জ্যাসি অকপটে স্বীকার করেন যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি আগামী পঁচিশ বছর ধরে সমানভাবে ভাগ করে ব্যয় করা যেত, তবে তা কোম্পানির জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক হতো। কিন্তু বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারব্যবস্থা তাদের সেই সুযোগটুকু দিচ্ছে না।
তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আমাজনের সার্বিক রাজস্ব এবং নগদ অর্থের প্রবাহ চিরদিনের মতো ইতিবাচকভাবে বদলে যাবে।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট বা পুঁজিবাজার মাইক্রোসফটের প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশ মৃদু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার এই টেক জায়ান্টটির শেয়ারের দাম এক শতাংশেরও কম হ্রাস পেয়েছে।
জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের অন্যতম প্রধান আর্থিক বিনিয়োগকারী এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি এআই খাতসংক্রান্ত সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় ৫০০ কোটি ডলার কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করার একটি জোরালো পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
এরই মধ্যে মাইক্রোসফটের মোট রাজস্ব আয় বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তাদের ক্লাউডভিত্তিক ব্যবসার আকার ৩০ শতাংশ প্রসারিত হয়ে ৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা জানিয়েছেন যে, মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘কোপাইলট’-এর দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গত জুলাই মাসের পর থেকে এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা কাজের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সাধারণত যেকোনো কোম্পানির খরচ হ্রাসের উদ্যোগ এবং বিক্রি বাড়ার সংবাদ বিনিয়োগকারীদের মনে দারুণ আশার সঞ্চার করে ও ইতিবাচক বার্তা দেয়। কিন্তু বিশিষ্ট বিশ্লেষক ট্রেসি উ মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে করা বড় বড় প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা সফল রূপ নেবে, তা নিয়ে পুঁজিবাজারে এখনো বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে, মাইক্রোসফটের এই আর্থিক ফলাফল বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রবল চাহিদাকে যেমন প্রমাণ করে, ঠিক তেমনি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে যে—প্রযুক্তি শিল্পে শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে প্রকৃতপক্ষে কোন কোন পক্ষ বা কারা লাভবান হয়ে প্রকৃত মুনাফা ঘরে তুলতে পারবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা