
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত গবেষক সাবরিনা পাস্তারস্কি কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় এক যুগান্তকারী ও অভাবনীয় ধারণার জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই প্রস্তাবিত তত্ত্বটির মূল কাজ হলো মালদাসেনার পূর্ববর্তী বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে আমাদের দৃশ্যমান এই বাস্তব ও সমতল মহাবিশ্বের সঙ্গে সফলভাবে মানানসই করে তোলা। পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ ও বাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটানোর এই অনন্য প্রচেষ্টাকে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
পাস্তারস্কির তৈরি করা বিশেষ বৈজ্ঞানিক মডেল অনুযায়ী, আমাদের এই বিশাল মহাবিশ্বের অভ্যন্তরে ঘটে চলা সমস্ত কোয়ান্টাম কণার পারস্পরিক সংঘর্ষ এবং তাদের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতির নিখুঁত হিসাব অসীম দূরত্বে অবস্থানরত একটি দ্বিমাত্রিক গোলকের ওপর নির্দিষ্ট বিন্দু হিসেবে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। এই বৈজ্ঞানিক মডেলটির বহুল প্রচলিত আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে সেলসেটিয়াল হ্যালোগ্রাফি।
এই বিশেষ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সমগ্র মহাবিশ্বের অন্তর্নিহিত চারমাত্রিক পদার্থবিদ্যার জটিল বিষয়গুলোকে একটিমাত্র দ্বিমাত্রিক গোলকীয় সীমানার কাঠামোর মাধ্যমে নতুন করে পুনর্গঠন করার গাণিতিক পরিকাঠামো তৈরি করছেন এই গবেষক। যাকে সহজ ভাষায় পদার্থবিদ্যার নতুন ব্যাকরণ হিসেবেও অভিহিত করা চলে। তাঁর এই যুগান্তকারী গাণিতিক অবদান মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে।
এই প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল তাঁর অত্যন্ত শৈশবকাল থেকেই। জীবনের খুব অল্প বয়সে তিনি নিজের প্রতিভা ও একাগ্রতার প্রমাণ দিয়ে ১২ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে একটি বিমান তৈরি করার কঠিন কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার জোরে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সেই নিজ হাতে গড়া বিমানটিকে সফলভাবে আকাশে ওড়াতে সম্পূর্ণ সক্ষম হন তিনি।
শিক্ষাজীবনের শুরুতে তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করা এবং সেই পথেই ক্যারিয়ার গড়া। কিন্তু পরবর্তীতে নিজের আগ্রহের পরিবর্তন ঘটিয়ে তিনি বিশ্বখ্যাত উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ম্যাসেচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি সংক্ষেপে এমআইটি থেকে পদার্থবিদ্যায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা