
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অভিনব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের শরীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভাইরাস প্রবেশ করিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির কার্যকারিতা যখন ফুরিয়ে আসে, তখন চিকিৎসকদের পরীক্ষামূলক থেরাপি চালানোর বিশেষ অনুমতির আওতায় এক রোগীর ওপর এই ব্যতিক্রমী চিকিৎসাটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান র্যাডিক্যাল নিউমেরিকস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, মানবদেহের চিকিৎসায় এআই-নকশাকৃত ফাজ ভাইরাস ব্যবহারের এটাই প্রথম রেকর্ড। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বড় দাবিটি এখনো পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচিত বা পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই থেরাপি প্রয়োগের আগে রোগীর দেহ থেকে সংগৃহীত ব্যাকটেরিয়ার নমুনার ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ভাইরাসগুলো সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরির ভেতরে ভাইরাসের এই বিশেষ মিশ্রণটি রোগীর নমুনায় উপস্থিত অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা নির্মূল করতে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছিল।
তবে এই চিকিৎসাব্যবস্থা গ্রহণের পর রোগীর স্বাস্থ্যের কোনো ধরনের উন্নতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি র্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। এমনকি রোগীর নিখুঁত রোগনির্ণয়, এই চিকিৎসার চূড়ান্ত ফলাফল কিংবা তাঁর শরীর থেকে সংক্রমণ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার গতিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে এবং এ নিয়ে আগ্রহও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম উপায়ে এ ধরনের নতুন ভাইরাস তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং সার্বিক জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা যৌথভাবে জানিয়েছিলেন, তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে এমন কিছু ভাইরাস নকশা করেছেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাদের প্রস্তুত করা সেই ভাইরাসগুলো পরীক্ষাগারে ই. কোলাই বা E. coli ব্যাকটেরিয়া সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা