
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব মোকাবিলায় জনসমক্ষে কেমন ভাষা ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়, তা নিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভেতর মতভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক নির্দেশনা এই অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে নতুন করে তীব্র করে তুলেছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশের জোরালো অভিমত হলো, মস্কোর হুমকিগুলোকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করলে আদতে ক্রেমলিনই উপকৃত হয়। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমা সামরিক ও আর্থিক সহায়তা মন্থর করে দেওয়াই রুশ প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য।
বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকা অপর একটি দল আবার মনে করে, রুশ হুমকির বাস্তব চিত্রটি ইউরোপের দেশগুলোর নাগরিকদের কাছে সম্পূর্ণ খোলামেলাভাবে তুলে ধরা উচিত। মস্কোকে সফলভাবে রুখে দিতে হলে সাধারণ মানুষকে সম্ভাব্য ত্যাগ এবং পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দের বিষয়ে প্রস্তুত রাখা একান্ত আবশ্যক। বিশেষ করে ইউরোপীয় ভূখণ্ডজুড়ে ক্রেমলিনের গোপন অন্তর্ঘাতমূলক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
যদিও এ ধরনের কোনো নাশকতামূলক অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি কূটনৈতিক সূত্র সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, বাল্টিক অঞ্চলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলব্রিজ কলবি সতর্ক করে বলেছিলেন যে রাশিয়াকে কোনো অবস্থাতেই অপ্রয়োজনীয় উসকানি দেওয়া ঠিক হবে না। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় নেতারা যেন প্রকাশ্যে মস্কোকে কোনোভাবেই ‘কোণঠাসা ইঁদুরের’ সঙ্গে তুলনা না করেন, সেই বিষয়টিই উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন কলবি এবং এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি সম্পূর্ণ অনুৎপাদনশীল বলে অভিহিত করেছিলেন।
অবশ্য এলব্রিজ কলবি ঠিক কার বা কোন সুনির্দিষ্ট মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে এস্তোনিয়ার সরকারপ্রধান ক্রিস্টেন মিখাল রুশ রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রকাশ্যে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। সে সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান থমকে যাওয়ার ফলেই পুতিন ইউরোপজুড়ে নাশকতার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বার্তাগুলোর বিশদ বিবরণ দিতে গিয়ে অপর এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানান, মার্কিনরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছে যে তারা ইউরোপের পাশে রয়েছে এবং সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে, তবে এ বিষয়ে যেন অদরকারে বেশি উচ্চবাচ্য বা শোরগোল তৈরি করা না হয়। অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আরেকটি আলাদা বৈঠকে পেন্টাগনের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার একটি প্রতিনিধিদলকে তাদের বক্তব্য প্রদান ও যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি পরিমিত ও সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। উক্ত বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি এই তথ্য নিশ্চিত করলেও, পেন্টাগনের কর্তাব্যক্তিরা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো নির্দিষ্ট বিবৃতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা