
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় পাইলটসহ মোট ছয়জন যাত্রী নিয়ে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার বড় ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উদ্ধারকাজ তদারকি করতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় যেসব ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, তাঁদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততার সঙ্গে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করার জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হেলিকপ্টারটিতে থাকা সকল যাত্রী যেন শেষ পর্যন্ত নিরাপদে নিজেদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে সুস্থ শরীরে ফিরে আসতে পারেন, সেই কামনা করে প্রার্থনা করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও যোশীমঠের মহকুমা শাসক চন্দ্রশেখর বশিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, চপারটি নিশ্চিতভাবেই বিধ্বস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দুর্গম ওই এলাকায় জরুরি সেবা পৌঁছানোর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসডিএম চন্দ্রশেখর বশিষ্ঠ আরও জানান যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী, স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের বা এসডিআরএফের প্রশিক্ষিত দল, স্থানীয় পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছেন। এমনকি এই সরকারি কর্মকর্তা নিজেও ব্যক্তিগতভাবে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড়ি এই রাজ্যে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো অনেক উদ্বেগ ও পরিসংখ্যান নতুন করে সামনে চলে এসেছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকের দীর্ঘ সময়সীমায় উত্তরাখণ্ডের দুর্গম ভূখণ্ডে অন্তত বারোটি আলাদা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটার রেকর্ড রয়েছে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত দশ বছরে ঘটে যাওয়া এই বারোটি দুর্ঘটনার মধ্যে পাঁচটি ছিল অত্যন্ত বড় ধরনের এবং মর্মান্তিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অন্যদিকে বাকি সাতটি দুর্ঘটনা ছিল তুলনামূলকভাবে প্রাণহানিহীন।
প্রাণহানি ঘটেনি এমন ঘটনার ভেতরে রয়েছে মূলত জরুরি পরিস্থিতির মুখে পড়ে মাটিতে অবতরণ করার সময় আহত হওয়ার বিভিন্ন ঘটনা এবং মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে জরুরি অবতরণ করার নানান পরিস্থিতি। এছাড়া মাটিতে ঘটিত বিভিন্ন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হিসাবও এই সামগ্রিক পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে অতীতে ঘটে যাওয়া অনুরূপ আরেকটি বড় বিপর্যয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুন মাসের দিকে উত্তরাখণ্ডের পবিত্র কেদারনাথ মন্দির এলাকা থেকে ছেড়ে এসে গুপ্তকাশীর দিকে রওনা হওয়া অপর একটি যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার ঘন বনাঞ্চলের ভেতরে হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়েছিল।
সে সময়কার ওই বেদনাদায়ক বনাঞ্চলের বিমান দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটিতে থাকা সাতজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক এমন হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা পাহাড়ি অঞ্চলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা