
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে চলমান সাঁতার প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্রীড়াবিদ ইরফানা খাতুন। টুর্নামেন্টের তৃতীয় দিনে এসে তিনি নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন আরও একটি নতুন কীর্তি। এর মধ্য দিয়ে তিনি কেবল একটি নয়, বরং এককভাবে মোট তিনটি ভিন্ন ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ডের মালিক বনে গেছেন।
গত সোম ও মঙ্গলবারের মতো আজও সুইমিংপুলের এই আসরে নতুন রেকর্ডের ধারা অব্যাহত ছিল। আজকের দিনে সবমিলিয়ে দুটি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এই দুটিসহ প্রতিযোগিতার প্রথম তিন দিনেই গড়া জাতীয় রেকর্ডের মোট সংখ্যা এখন পর্যন্ত ষোলোটিতে গিয়ে ঠেকেছে।
সবশেষ কীর্তিটিতে ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন ইরফানা। এই দূরত্ব অতিক্রম করতে তিনি সময় নিয়েছেন মাত্র ৩৪.৫৭ সেকেন্ড। এর আগে ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতার একই দূরত্বে ৩৪.৮৫ সেকেন্ড সময় খরচ করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন মাহফুজা খাতুন শিলা। দীর্ঘ এক যুগ পর সেই পুরোনো কীর্তি মুছে ফেলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করলেন এই সেনা সাঁতারু।
তার আগে তিনি ব্যাকস্ট্রোক ও ব্রেস্টস্ট্রোকেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলেন। ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দুই মিনিট ৪৫.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছিলেন রোমানা আক্তারের গত বছরের গড়া সেরা টাইমিংটিকে। এছাড়া ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও রোমানার ২০২৪ সালের ১ মিনিট ১৮.২৭ সেকেন্ডের রেকর্ড নিজের করে নেন। এই ইভেন্টে তাঁর নতুন টাইমিং ছিল ১ মিনিট ১৭.৩৬ সেকেন্ড।
এদিকে আজকের দিনে আসা দ্বিতীয় জাতীয় রেকর্ডটি অর্জিত হয়েছে মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে দলগত ইভেন্টে। এই প্রতিযোগিতায় ৯ মিনিট ৪৭.৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জেতার পথে তারা পেছনে ফেলেছে নৌবাহিনীকে। গত বছর নৌবাহিনীর সাঁতারুরা ৯ মিনিট ৫০.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ডটি গড়েছিলেন।
সেনাবাহিনীর পক্ষে এই রিলে দলের হয়ে পুলে নেমেছিলেন মুক্তি খাতুন, ইরফানা খাতুন, ছুম্মা খাতুন এবং জুঁই আক্তার। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য এসেছে।
অন্যদিকে পদক তালিকার বর্তমান অবস্থানেও রয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আসরে এখন পর্যন্ত ২৮টি স্বর্ণ, ১৮টি রৌপ্য এবং ১৩টি ব্রোঞ্জ পদक নিজেদের ঝুলie নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারা অর্জন করেছে ১২টি স্বর্ণ, ১৮টি রৌপ্য এবং ২২টি ব্রোঞ্জ পদক। এ ছাড়াও দুটি রৌপ্য ও ছয়টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে তৃতীয় স্থানটি দখল করে আছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা