
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নিজের আবাসন থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ দূরে অবস্থান করার সময় সহসা একটি শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পান হামেদ। ঠিক ওই মুহূর্তেই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরিত হয় এবং প্রকাণ্ড শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে।
এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে স্ত্রী, পিতা, মাতা এবং দাদীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের তীব্র চেষ্টা চালান তিনি। তবে কোনো প্রান্ত থেকেই আর সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সেই মুহূর্তেও হামেদের মন মেনে নিতে পারছিল না যে ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্রটি তাঁর নিজের আবাসস্থলেই আঘাত হেনেছে। দুর্ঘটনাস্থলে পা রেখে তিনি দেখতে পান, বহুতল ভবনটির কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত কংকাল পড়ে আছে এবং চারদিকে লেলিহান শিখা জ্বলছে।
ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিজের স্ত্রীকে খোঁজার চেষ্টা চালালেও সেখানে ওঠার কোনো সিঁড়ি আস্ত পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা এসে ধবংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বেশ কিছু প্রতিবেশীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলগুলো তাঁর পরিবারের সবাইকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পাবেন বলে প্রবল আশা করেছিলেন হামেদ। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেও ওই ধংসস্তূপ থেকে তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর পর টানা বিশ দিন ধরে নিজেই ভাঙা কংক্রিট এবং ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো সরিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফেরেন এই হতভাগ্য ব্যক্তি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা