
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরগুলোতে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। আয়োজকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, গ্রিস এবং তুরস্কে একটানা ২৪ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘট চলছে।
এর পাশাপাশি মরক্কো এবং সাইপ্রাসসহ আরও কয়েকটি রাষ্ট্রে দুই ঘণ্টার প্রতীক্ষামূলক কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে ইতালির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন 'ইউএসবি' সমগ্র দেশজুড়ে একটি সাধারণ ধর্মঘট পালনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে।
বিভিন্ন দেশের অস্ত্র সরবরাহের রুট ও গতিপথ নিয়ে অনুসন্ধান চালানো সংগঠন 'নো হারবার ফর জেনোসাইড' বা এনএইচজি একটি বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধান ও বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'এলবিট সিস্টেমস'-এর উদ্দেশ্যে পাঠানো বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মোট ৩১৫টি চালান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, চিহ্নিত হওয়া এই চালানগুলো বিশ্বের ২৯টি দেশের মোট ৫৬টি বাণিজ্যিক বন্দরের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা হয়েছিল। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওই ৫৬টি বাণিজ্যিক বন্দরের প্রতিটিই আজকের এই প্রতিবাদী ধর্মঘট কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
এনএইচজি আরও দাবি করেছে যে, আজকের এই সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিভিন্ন পণ্যবাহী চালান আটকা পড়ে থাকতে পারে। বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া বন্দরগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রভিত্তিক পণ্য পরিবহনের প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলোর এই জোরালো অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা