
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মা ইলিশ সুরক্ষায় আরোপিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নতুন ভরসা নিয়ে গভীর সমুদ্রে জাল ফেলতে শুরু করেছেন জেলেরা। তবে সাগরে পৌঁছানোর পরপরই আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বরগুনার উপকূলীয় জেলেদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিগত ইলিশ শিকারের পুরো মৌসুমজুড়েই বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে জেলেদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল।
খারাপ আবহাওয়ার এই নিত্যান্তই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে সাগরে ট্রলার নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এমনকি বৈরী প্রকৃতির কবলে পড়ে সাগরে গিয়ে অতীতে খোঁজ হারানো বহু জেলের সন্ধান এখনো মেলেনি।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আরও যোগ করেন যে, সরকারের বেঁধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা বুকভরা নতুন আশা নিয়ে সাগরে পাড়ি জমিয়েছেন। অথচ চলতি মৌসুমের একেবারে শুরুর দিকেই বৈরী আবহাওয়ার চোখরাঙানি তাঁদের মনে নতুন করে শঙ্কার মেঘ জমিয়েছে।
আবহাওয়া যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল ও অনুকূলের বাইরে থাকে, তবে ট্রলার মালিক ও জেলেদের পক্ষে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ মাছ আহরণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
শুধু মাছ শিকার ব্যাহত হওয়াই নয়, বরং আবহাওয়া খারাপ থাকলে গভীর সাগরে অবস্থানরত এই সমস্ত সাধারণ জেলেদের জীবন ও কর্মের নিরাপত্তাঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে সাগরে অবস্থানরত মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের সদস্যরাও চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন।
বিশেষ করে গত মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনায় বেশ কয়েকজন জেলের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিবারের স্বজনদের দুশ্চিন্তাকে এখন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিবারের উপার্জনক্ষম প্রিয় মানুষগুলো যেন সব বিপদ কাটিয়ে নিরাপদে আবারও হাসিঠাট্টায় ঘাটে ফিরে আসতে পারে, সেই অধীর প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন উপকূলের এই মানুষগুলো।
সূত্র: আজকের পত্রিকা