
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এক শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্য এসেছে, যেখানে আট বছরের এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধের সত্যতা মিলেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অভিযুক্ত এক বয়স্ক ব্যক্তিকে অবিলম্বে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আটককৃত ব্যক্তির বয়স বর্তমানে পঞ্চান্ন বছরের কাছাকাছি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে দাখিল করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বেও অত্যন্ত গুরুতর এবং নৈতিকতা বিবর্জিত একটি অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর আগের একটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানা যায় যে, সেসময়েও অপর এক নারীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে সেই ঘটনার জেরে তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক প্রদান করেছিলেন বলে জানা গেছে।
পূর্বের সেই কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবার তিনি আরও বেশি বয়সের ব্যবধানে একটি কোমলমতি শিশুকে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছেন। আট বছরের অসহায় এক শিশুর ওপর চালানো এই শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর পরই তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটককৃত মোহাম্মদ কাজল পরবর্তীতে কাপ্তাই থানায় উপস্থিত হয়ে নিজ মুখে সম্পূর্ণ ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি জবানবন্দি প্রদান করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই পুলিশের কাছে আট বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা