
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক উপত্যকায় দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষমতার লড়াই ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রামবাসীরা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস ইউপিডিএফের প্রধান নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো দখলে নিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ইউপিডিএফের পরিচালনায় থাকা বিভিন্ন খামারসহ মৎস্য ও কৃষিজমিও জেএসএসের কব্জায় চলে যায়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে পেরে না উঠে শেষ পর্যন্ত ইউপিডিএফের কর্মীরা ওই এলাকা ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে বাধ্য হন।
নিজস্ব হারানো অবস্থান ও এলাকা ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউপিডিএফ। এই লক্ষ্যে প্রথমে তারা পর্যটকদের জিম্মি করার কৌশল গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষকে মানবঢাল বানিয়ে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে। মূলত সাজেক উপত্যকায় আটকে পড়া ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট নমনীয় মনোভাব পোষণ করে এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চেয়েছিল।
তবে সময়ের ব্যবধানে পুরো পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। এ বিষয়ে এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ২২ অক্টোবর পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অবরোধ নিয়ে আর কোনো ধরনের বাড়তি মাথাব্যথা দেখাচ্ছে না। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর তরফ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই অবরোধ যদি দীর্ঘ এক বছর ধরেও অব্যাহত থাকে, তবুও তারা এটি নিয়ে ন্যূনতম কোনো আগ্রহ দেখাবে না বা মাথা ঘামাবে না।
ওই জনপ্রতিনিধি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়টি সাজেক অঞ্চলে কমলার পাশাপাশি মরিচ ও কলার পূর্ণ মৌসুম। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই টানা অবরোধের কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পচনশীল এসব কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যেতে পারছেন না। এর ফলে সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
অন্যদিকে, সাজেক ভ্যালির দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ কিলোমিটারজুড়ে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে টানা আট দিন ধরে। এলাকায় কোনো পর্যটক বা ভ্রমণকারী না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষকে। বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, সাজেকের চলমান অবরোধ পরিস্থিতির এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। আগের মতো একই অবস্থায় সবকিছু আটকে আছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা