
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা ও আতঙ্ক কেটে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে নিজেদের বসতভিটা রক্ষা পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে।
রায়পুর ইউনিয়নের ছিবাতলী ঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহিদুল আলম এই প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে জানান যে, তাদের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত বেড়িবাঁধটি অবশেষে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর ফলে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার চিরকালীন ভয় আর তাদের তাড়া করে বেড়াবে না।
মো. জাহিদুল আলম আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে সদ্যনির্মিত এই বেড়িবাঁধটি কেবল সুরক্ষাই দিচ্ছে না, বরং এর নান্দনিক রূপের কারণে এটি এলাকার মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা সালাউদ্দিন জাহেদ জানান যে, তাদের এই জনপদটি বহু বছর ধরে নিয়মিতভাবে তীব্র নদীভাঙন ও উপকূলীয় প্লাবনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে আসছে। নতুন এই টেকসই বাঁধের কারণে নদীর ভাঙন ঝুঁকি অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সালাউদ্দিন জাহেদ আরও উল্লেখ করেন যে, এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার ফলে স্থানীয় জনসাধারণকে আর নিজেদের বসতবাড়ি হারানোর চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাঁধটি যদি যথেষ্ট মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির হয়, তবে এটি আগামী বেশ কয়েক দশক ধরে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।
এই পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আনোয়ারা অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক কাজের বর্তমান অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে, রায়পুর ইউনিয়নে নির্দিষ্ট সময়ের নির্ধারিত মেয়াদের আগেই প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রকৌশলী বর্ণ হক আরও নিশ্চিত করেন যে, এই প্রকল্পের আওতাধীন বাকি থাকা অবশিষ্ট কাজগুলোও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের জুনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজটি সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা