
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) তামিম নামের এক যুবক আরেকটি বিয়ে করেন বলে দাবি করেছেন লিমা নামের এক তরুণী। এই বিয়ের খবর জানতে পেরে পরদিন বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন লিমা এবং তামিমের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নিজের স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনড় অবস্থান নেন।
কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর পর তামিমের বাবা-মা এবং অন্যান্য স্বজনেরা লিমার দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তামিম নিজে বাড়ি থেকে সটকে পড়েন এবং অন্যত্র চলে যান।
লিমা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তামিমের সঙ্গে তাঁর বৈধ বিবাহ হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যকার এই দুই বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা দুই পরিবারেরই সব সদস্যের জানা ছিল। এমনকি তামিমের বাবা-মা অতীতে নিয়মিত তাঁদের বাসায় যাতায়াতও করতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লিমার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাতে তামিমের মামা তাঁকে জোরপূর্বক ও মারমুখী আচরণ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তবে হাল ছাড়েননি তিনি, আজ শুক্রবার সকালেও আবারও তামিমের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে এসে পুনরায় অবস্থান গ্রহণ করেছেন লিমা।
এদিকে এই পুরো ঘটনাটির সত্যতা ও তামিমের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের জোর চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যার ফলে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে নিজের মন্তব্য ব্যক্ত করে জানান, একপক্ষ মেয়েটিকে ছেলের ঘর থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়েছে, আবার অন্যপক্ষ তাঁকে ওই ঘরে পুনরায় রাখার দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত এই দায়িত্ব নেওয়ার কোনো এখতিয়ার বা ইচ্ছা তাঁর নেই, তবে যদি এর জেরে এলাকায় কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তিনি বিষয়টি কঠোরভাবে দেখবেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা