
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নেপালের পাহাড়ি জনপদে শত শত বছর ধরে ঐতিহ্যগতভাবে ধান চাষ চলে আসছে। মূলত উদ্বৃত্ত চাল সংরক্ষণ করা এবং তা থেকে নতুন স্বাদের খাবার প্রস্তুত করার ভাবনা থেকেই চালের গুঁড়া দিয়ে সেল রোটি তৈরির প্রচলন শুরু হয় বলে মনে করা হয়।
এটি মূলত একটি গোল আকৃতির মিষ্টি ও ভাজা খাবার, যাকে অনেকে প্রায়ই নেপালি চালের ডোনাট হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। খাবারটির বাহ্যিক দিকটা সোনালি রঙের ও মুচমুচে হলেও এর ভেতরের অংশ বেশ নরম হয়ে থাকে।
চালের গুঁড়ার সঙ্গে চিনি, ঘি, পানি এবং এলাচ কিংবা অন্যান্য মসলা মিশিয়ে এই বিশেষ গোলা প্রস্তুত করা হয়। সুস্বাদু করার উদ্দেশ্যে কোনো কোনো রেসিপিতে এর সাথে দুধ বা কলাও যুক্ত করা হয়ে থাকে।
প্রাচীনকাল থেকেই কোনো ধরনের আধুনিক তৈজসপত্র বা ছাঁচের ব্যবহার ছাড়াই কেবল হাতের আঙুলের সুনিপুণ কৌশলে গরম তেলের মধ্যে মিশ্রণটি বৃত্তাকারে ঢেলে সেল রোটি ভাজা হতো। এই ঐতিহ্যবাহী রান্নার কৌশলটি বংশপরম্পরায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে।
সাধারণত গরম চা, বিভিন্ন তরকারি, আলুর দম কিংবা দইয়ের সঙ্গে এই খাবারটি পরিবেশন করার রেওয়াজ রয়েছে। নেপালের প্রধান উৎসব দশইন এবং তিহার ছাড়াও দেশের নানা ধরনের পারিবারিক আয়োজন ও উৎসবে এটি অপরিহার্য পদ হিসেবে থাকে।
শুধু নেপালেই নয়, দেশটির সীমানা পেরিয়ে ভারতের সিকিম, দার্জিলিং এবং কালিম্পং অঞ্চলেও সেল রোটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা