
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী একটি সুনির্দিষ্ট পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা কোনোভাবেই উচিত নয়। একটি নির্দিষ্ট টপিক বা অধ্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয় পরিবর্তন করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাংলা এবং এর পরপরই সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাধারণ জ্ঞান পড়া যেতে পারে। এভাবে প্রতিদিন প্রতিটি বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ করা উচিত।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাফল্যের প্রথম ধাপ হলো প্রশ্নব্যাংক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা। এর মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর পেছনে তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। সেই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে আসা প্রশ্নগুলো নিয়মিত সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই, শিক্ষার্থী যে সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটিই বেছে নিতে পারেন। কারো যদি রাত জেগে পড়াশোনা করার অভ্যাস এবং ভালো লাগা থাকে, তবে তিনি রাতে পড়তে পারেন। অন্যদিকে, যাদের সকালে ঘুম থেকে ওঠার পছন্দ রয়েছে, তারা ভোরবেলাকে পড়াশোনার জন্য বেছে নিতে পারেন।
সপ্তাহজুড়ে যা পড়া হলো, তা মাথায় স্থায়ী করতে সপ্তাহের শেষ দিনটিতে পুরো সপ্তাহের পড়াগুলো ভালোভাবে ঝালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণভাবে সহায়তা করবে।
প্রতিদিনের রুটিনে লিখিত পরীক্ষার চর্চাকে আবশ্যিক রাখতে হবে। মূল পরীক্ষায় যেহেতু উত্তর লেখার জন্য খাতায় একটি নির্দিষ্ট জায়গা বা পরিমিত পরিসর নির্ধারিত থাকে, তাই সেই সীমার মধ্যে উত্তর লেখার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। এর জন্য উদ্দীপকের উত্তর প্রদান, শূন্যস্থান পূরণ, বাক্য গঠন, সারাংশ, সারমর্ম এবং ইংরেজি রচনা লেখার দক্ষতা ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।
এ ছাড়া প্রস্তুতিকে আরও শানিত করতে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি প্রশ্নব্যাংক সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রশ্নব্যাংক থেকে বাংলা বিষয়, ইংরেজি (সাহিত্য অংশ বাদে) এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাধারণ জ্ঞান সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নিয়মিত সমাধান করতে হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা