
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাম্প্রতিক সময়ে একটি অদ্ভুত ব্যাপার আমার নজরে এসেছে যে আমার হুবহু প্রতিচ্ছবির মতো একটি অবয়ব সবসময় আমার সঙ্গী হয়ে চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। আমি যেদিকেই মুখ ফেরাই কিংবা যে স্থানটিতেই পদার্পণ করি না কেন, ডানে কিংবা বাঁয়ে সেটি ঠিক আমার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।
আমার নিজস্ব পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমি গতি বাড়ালে সেও দ্রুত দৌড়াতে শুরু করে এবং আমি থেমে গেলে সেও তার গতি রোধ করে। মাঠঘাট থেকে শুরু করে বিপণীবিতান, লিফট কিংবা সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে এই জ্যান্ত প্রতিরূপটি আমার পিছু ছাড়ছে না।
আমার প্রতিটি ভঙ্গি হুবহু অনুকরণ করে সে লাফানো বা নাচার মতো কাজগুলোও নিখুঁতভাবে করে চলে এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই অদ্ভুত সত্তাটির পেছনে নিশ্চয়ই কোনো গোপন অভিসন্ধি লুকিয়ে আছে।
সাধারণ মানুষের মুখে দশচক্রের নানা গল্পের কথা শোনা যায় যেখানে কারও পেছনে গোয়েন্দা লেলিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এই রহস্যময় সত্তাটি কি তবে কোনো গোয়েন্দা নাকি কোনো মাফিয়া খুনি?
হতে পারে এটি নিছকই কোনো অপচ্ছায়া যা চোখের পলকে মিলিয়ে যায় অথবা কারও কোনো প্রেতাত্মা, পেতনি কিংবা ভূতের আছরও এর পেছনে কাজ করতে পারে।
কখনও সে দ্রুত পায়ে ছুটে চলে আবার কখনও খুব ধীরেসুস্থে হাঁটে, আবার ক্ষেত্রবিশেষে তার আকৃতি কখনো লম্বা ও সরু আবার কখনো বেশ চ্যাপ্টা ও বেঁটে মনে হয়।
আমার মতো একজন মানুষের পিছু নিয়ে তার ভেতরে কী ধরনের আনন্দ কাজ করে তা আমার অজানা, তবে কড়া রোদের আলোয় হঠাৎ করেই তার এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এমন অদ্ভুত এক প্রতিরূপের কারণে আমি নানaভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছি এবং চরম আতঙ্কে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অথচ ধস্তাধস্তি করেও তাকে শক্ত করে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
জরুরি সেবায় যোগাযোগের জন্য ট্রিপল নাইনে কল করতে উদ্যত হয়ে আমি এক ধরনের হতবিহ্বল অবস্থার মুখোমুখি হই এবং তখনই মাথায় আসে এটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি আমারই কোনো ডিজিটাল ডামি!
প্রখর রোদের তাপে ছায়ার মতো সে সবসময় আমার সঙ্গে লেপ্টে থাকে আর এই তীব্র আতঙ্ক থেকেই আমি আপাতত ঘর থেকে বাইরে পা রাখছি না।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।