
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রোগীর চিকিৎসা সেবা চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালের ভেতরে এক সিনিয়র নার্সকে বেদম মারধর করে জখম করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই আকস্মিক ও অনভিপ্রেত মারামারির ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত পক্ষ থেকে থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোটা হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আহত নার্স শাহানাজ পারভিন জানান, নাইট ডিউটি আগে করা নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় এবং লিপি বাসা থেকে এসে নিজের বোনের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। সহকর্মীদের মাঝে কথা-কাটাকাটি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন নৃশংসভাবে তাকে মারধর করা হবে তা তাঁর কল্পনারও অতীত ছিল। চোখ ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত এই নার্স ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে শিল্পী ও লিপি আক্তার নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন যে শাহানাজ নিয়মিত তাঁদের কটূক্তি ও গালিগালাজ করতেন। ডিউটির রোস্টার নিয়ে কটাক্ষ করার প্রতিবাদ করতে গেলে শাহানাজ উল্টো তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে তাঁরা দাবি করেন। ঝামেলার একপর্যায়ে শিল্পীর হাতের দুই ভরি ওজনের দুটি সোনার বালা এবং লিপির আট আনা ওজনের সোনার চেইন শাহানাজ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ তোলেন।
অভিযুক্ত এই দুই পক্ষ জানিয়েছে যে ইতিমধ্যে তাঁরাও থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং এই বিরোধের বিচার আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। ঘটনার সময় ডিউটিতে নিয়োজিত থাকা অপর নার্স শিরিন আক্তার দাবি করেন যে মারপিটের ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরে লোকমুখে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। হাসপাতালের পুরো পরিবেশ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে এই মারামারির ঘটনায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ থেকেই থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্তাধীন রয়েছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও তদন্ত কমিটির প্রধান আসাদুজ্জামান নাহিদ জানান, এই অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত করার জন্য তাঁকে প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর কাছে পরবর্তীতে অবগতির মাধ্যমে এসেছে এবং এই ঘটনার ফলে হাসপাতালের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার নেপথ্যের সত্য উদঘাটনে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদকে প্রধান করে মোট পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা