
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষায় এই বোর্ডের আওতাধীন মোট ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেননি। এই শূন্য সাফল্যের তালিকায় নাম রয়েছে গাইবান্ধা জেলার দুটি বেসরকারি কলেজের, যেগুলোর একটিও এখনো এমপিওভুক্ত বা সরকারি তালিকাভুক্ত নয়। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠান দুটি এমপিওভুক্তকরণের সুবিধা পায়নি।
এই শোচনীয় ফলাফলের বিষয়ে জানতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই অধ্যক্ষের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, ফলে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান রশিদ গণমাধ্যমের কাছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, চলতি বছরে তাঁদের কলেজ থেকে কেবল মানবিক বিভাগেই নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী মিলিয়ে মাত্র দুজন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি।
অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান রশিদ আরও জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০০ সালে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কলেজটি কেবল পাঠদানের সরকারি অনুমোদন পেলেও আজও তা এমপিওভুক্ত হয়নি। এই চরম হতাশার কারণে অনেক শিক্ষকই এখন এমপিওভুক্তির সব আশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন।
বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে শিক্ষকরা সাধারণত প্রতিষ্ঠানে আসেন না বলে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান রশিদ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, শিক্ষকদেরও তো নিজস্ব সংসার রয়েছে এবং বিনা বেতনে তাঁরা আর কত দিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবেন? শিক্ষক সংকটের এই করুণ পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, আর এর ফলেই মূলত কাঙ্ক্ষিত ও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা