
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিরোধী দল বা আন্দোলন করে কখনো সরকার গঠন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, পারস্পরিক কোন্দল বা নিজেদের মধ্যে বিবাদ নিরসনে ব্যর্থ হলে আখেরে লাভবান হয় সেই পক্ষ, যারা দেশের ভেতর বিভাজন দেখতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি উপমা দিয়ে বলেন, দুই ভাই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলে যেমন প্রতিবেশী সালিসের নামে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে এবং সুযোগ বুঝে দুই ভাইয়ের সম্পত্তি গ্রাস করতে চায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পরিণতিও ঠিক তেমনই হতে পারে।
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সব মহলের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের তাগিদ দিয়েছেন চিফ হুইপ। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে জোরালো প্রশ্ন রেখে বলেন, রাষ্ট্র যদি শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের মুখে পতিত হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর দায় আমরা কীভাবে এড়াব এবং তাদের কী জবাব দেব? গত ৫৪ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় জাতি বহুবার নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে শক্তি অপচয় করেছে উল্লেখ করে তিনি এখন আর বিভেদে না জড়িয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়াম ও জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সরকার নিয়মিত ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এর মধ্যেও একশ্রেণির মানুষ দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলার হীন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এখনো বাজারে কৃত্রিম সংকট জিইয়ে রেখে বর্তমান সরকারকে জিম্মি করতে চায়, যা মূলত দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করার শামিল। এ ধরনের জনবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সর্বদা সতর্ক ও সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমাজের উদ্দেশে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির নেপথ্যে প্রকৌশলীদের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। দেশের বর্তমান দক্ষ ও শিক্ষিত তরুণ জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এছাড়া বরিশাল বিভাগের সার্বিক ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, আপনারাই হলেন মূলত এই রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার আসল কারিগর। আপনাদের অর্জিত মেধা, পেশাগত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে দেশের মূলধারার কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এসব দাবি-দাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তীতে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
উল্লেখ্য, উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীসহ প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা