
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্বজনদের কাঁদিয়ে দেশের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিক্ষার্থী রাকিব। নিহত শিক্ষার্থীর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন গণমাধ্যমের কাছে তার ছোট ভাইয়ের এই গৌরবজনক ফলাফল অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরীক্ষায় এমন চমৎকার ফল অর্জন করার বিষয়টি রাকিবের পরিবারকে আনন্দিত করার কথা থাকলেও তা এখন রূপ নিয়েছে গভীর শোকে। প্রিয় সন্তানের এই সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করার মতো কোনো পরিস্থিতি আজ আর তাদের পরিবারে নেই, বরং এই অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক অসহনীয় ও বুকফাটা কষ্ট।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মামুনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে, রাকিবকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার পর খুনিচক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি অপব্যবহার করে।
প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তারা নিহত রাকিবকে জীবন্ত মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে একটি ভুয়া ভিডিও বার্তা তৈরি করে।
সেই ফেক ভিডিওটি অত্যন্ত সুকৌশলে নিহতের হতভাগ্য পরিবারের কাছে পাঠিয়ে তার মুক্তির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
সন্তানকে কোনো ক্ষতি ছাড়াই অক্ষত অবস্থায় বুকে জড়িয়ে ধরার তীব্র আকুলতায় পরিবারটি চক্রের কথামতো তাদের চার লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করে।
এত কিছু করার পরও আদরের সন্তানকে আর কোনোদিন জীবিত কিংবা সুস্থ অবস্থায় ফিরে পায়নি শোকার্ত পরিবারটি।
পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা এলাকা থেকে নিখোঁজ ও খুন হওয়া রাকিবের নিথর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা