
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে চিকিৎসালয়টিতে যে সমস্ত ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে, তা মূলত সাড়ে পাঁচ শ রোগীর উপযোগী। পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী প্রশাসন জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বারো শ শয্যা চালুর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন তাই পূর্ণাঙ্গভাবে বারো শ সাধারণ এবং এক শ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ বেডের অনুকূল সব ধরনের অবকাঠামো প্রস্তুত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও জানান যে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চিকিৎসালয়সহ দেশের আরও সাতটি প্রবীণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত মানোন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে শয্যাবৃদ্ধির আনুপাতিক হারে সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। চলতি বছরের সমাপনী অংশে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চিকিৎসালয়ের বর্ধিতকরণের কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে বর্তমানের কঠিন অবস্থার ভেতরেও চিকিৎসাসেবা প্রদানের যে ধারা চালু আছে, তার মান আরও উন্নত হবে।
পদ্মা অববাহিকা অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা সাপের দংশন এবং এর প্রতিষেধক প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী মন্তব্য করেন যে, নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে এই জনপদে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। এখানে নিয়মিতভাবেই প্রচুর দংশিত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসেন। তবে অনেক সময়ই এই চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁদের যথাযথ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম বা বিষ প্রতিষেধক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ভবনে নতুন লিফট বা এলিভেটর বসানোকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান লিফট সরবরাহ করলেও যান্ত্রিক ত্রুটির গুরুতর অভিযোগ থাকায় হাসপাতাল প্রশাসন তা স্থাপনে বাধা দেয়। এর ফলে আগত রোগীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি যখন তাঁর সামনে উত্থাপন করা হয়, তখন বিশেষ সহকারী জানান যে এই নির্দিষ্ট বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত ছিল না।
এই প্রসঙ্গে চিকিৎসালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান যে, এটি মূলত গত ২০২৩ সালের একটি ঘটনা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে লিফট বা উঠানোর যন্ত্রটি প্রদান করেছিল, তা ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণী বা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তাঁরা জানতে পেরেছেন যে পূর্ত বিভাগের মাধ্যমেও একটি পৃথক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ীও শাস্তিূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনের সম্মানিত সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক। এছাড়াও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চিকিৎসালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নামী চিকিৎসকেরা এই সময় উপস্থিত থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা