
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিনের খেলায় শুরুতেই বিপাকে পড়েছিল খুলনা। মাত্র ৭৩ রান সংগ্রহ করতেই তাদের প্রথম চার ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে দলের সংগ্রহ কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই দেখার বিষয় ছিল।
তবে সেই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে দিনশেষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৮০ রান বোর্ডে জমা করেছে খুলনা। ময়মনসিংহের বোলারদের পুরোপুরি হতাশ করে খুলনাকে এই অবস্থানে নিয়ে আসার মূল কারিগর মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান।
দলের এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার পথে পঞ্চম উইকেটে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে তোলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এই জুটিতে যোগ হয় মূল্যবান ১৬৭ রান, যার সুবাদে দুজনই নিজেদের ইনিংসে শতকের দেখা পান।
মিঠুন তার ইনিংসের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন এবং ময়মনসিংহের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ১১৯ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার মাত্র ১৬৯ বলের মুখোমুখি হয়ে ১২টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে এই রান সংগ্রহ করেন।
খুলনা দলের এই ডানহাতি ব্যাটারের এটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৭তম শতক। অন্যদিকে পিচের অপর প্রান্তে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও অবিচল এক ইনিংস খেলে দিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।
সোহান দিনের শেষ বল পর্যন্ত উইকেটে থেকে ১০৪ রান নিয়ে অপরাজিত মাঠ ছাড়েন। তার ১৮০ বলের এই ধৈর্যশীল ও পরিপক্ব ইনিংসে ৯টি চারের পাশাপাশি ২টি ছক্কার মার ছিল।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি উইকেটকিপার-ব্যাটার সোহানের ১৩তম সেঞ্চুরি। ময়মনসিংহ দলের পক্ষে সেরা বোলিং করেন ইয়াসিন আরাফাত, যিনি ব্যক্তিগত ৪০ রানের খরচায় তুলে নেন ৪টি উইকেট।
এদিকে বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে মাঠে নামা রাজশাহীর ইনিংসের শুরুটাও হয়েছিল মারাত্মক এক ব্যাটিং বিপর্যয় দিয়ে। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৪২ রান জমা হতেই তারা একে একে হারিয়ে বসে তাদের দলের প্রথম সারির ৫ উইকেট।
দলের এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তরুণ অলরাউন্ডার এস এম মেহেরব হাসান। তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলেন এবং অসাধারণ একটি ইনিংস উপহার দেন।
১৩টি আকর্ষণীয় চারের সাহায্যে ১৩২ বল খেলে ৮২ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন এই উদীয়মান তরুণ অলরাউন্ডার। তার সঙ্গী হিসেবে ২৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন নিহাদ উজ জামান।
মূলত ভেজা আউটফিল্ডের কারণে এ ম্যাচটির শুরু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেড় ঘণ্টা দেরিতে হয়। হাবিবুর রহমান হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ায় তার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া ইমন আলী নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি, শূন্য রানেই তাকে ফিরতে হয়।
দলের অধিনায়ক প্রীতম হাসানও কোনো রান সংগ্রহ না করেই আউট হন। একে একে সাব্বির, নাঈম ও শাকির বিদায় নিলে দলের রান খরা কাটাতে সানজামুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে কিছু সময় প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মেহেরব।
সানজামুল ব্যক্তিগত ১১ রান করে আউট হলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মেহেরব ও নিহাদ। দিনশেষে ৫৯ ওভার খেলা শেষে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে প্রথম দিন শেষ করে রাজশাহী।
রংপুরের বোলারদের মধ্যে সফল ছিলেন মেহেদী, যিনি প্রতিপক্ষের ৩টি উইকেট শিকার করেছেন। অন্যদিকে সিলেটে দিনের সবচেয়ে সেরা বোলিং পারফরম্যান্সটি উপহার দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ।
নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে মাঠে নেমে চট্টগ্রাম দলের এই বোলার ৭৪ রানের বিনিময়ে শিকার করেন ৪টি উইকেট। মুরাদের দুর্দান্ত বোলিং এবং আশরাফুল হাসানের ৩ উইকেটের সুবাদে মাত্র ২১৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিক সিলেট।
সিলেটের ব্যাটারদের মধ্যে কেবল আশরাফুলই কিছুটা লড়াই করে ফিফটি তুলে নিতে সক্ষম হন। এর আগের চার রাউন্ডে দুটি শতক হাঁকানো এই ব্যাটার করেন ৫১ রান।
শেষের দিকে খালেদ আহমেদ ও ইকবাল হোসেনের মারমুখী ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বদৌলতেই দুই শ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হয় সিলেট দল। দশম উইকেটে মাত্র ২৩ বলের মোকাবেলায় তারা মূল্যবান ৪১ রান যোগ করেন।
খালেদ ২৪ বলে ২৮ রান এবং ইকবাল ৮ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জবাবে ব্যাট করতে এসে ১৫ ওভারের খেলা শেষে ১ উইকেটে ৬৪ রান করেছে চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের পক্ষে মাহমুদুল হাসান জয় ৩৫ রান করে উইকেটে অপরাজিত আছেন। তবে দিনের একেবারে শেষ ওভারে রান নিতে গিয়ে ২৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সাদিকুর রহমান।
সাদিকুর রহমানের এই উইকেটটি লাভ করেন আসাদুল্লাহ আল গালিব। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা ও বরিশালের মধ্যকার নির্ধারিত ম্যাচটিতে একটি বলও মাঠে গড়াতে পারেনি।
মাঠের আউটফিল্ড অতিরিক্ত ভেজা থাকার কারণে ম্যাচের প্রথম দিনে কোনো প্রকার টস পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা