
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পড়াশোনার প্রতি নিজের তীব্র আগ্রহ ও প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে দীর্ঘ একটা বিরতির পর জীবনের বায়ান্ন বছর বয়সে এসে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার মুখ দেখেছেন শেফালী। নির্ধারিত গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের এই পর্যায়ে এসে এমন অর্জন অনেকের কাছেই এক দারুণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এবং তিনি নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষাজীবন অধরা রয়ে যাওয়ার আক্ষেপের কথা জানিয়ে শেফালী বলেন, একসময় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁকে বৈবাহিক সূত্রে স্বামীরগৃহে চলে যেতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পুরোদমে সংসার ও সন্তান লালন-পালনের কাজে মনোনিবেশ করতে হয়েছিল।
সন্তানদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত সফলতা তাঁকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রৌঢ় বয়সে এসে অনেকেই এই চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন, তবে তিনি নিজে সফল হয়েছেন। বয়স কেবল একটি নিছক সংখ্যা মাত্র এই বার্তা দিয়ে তিনি ঘোষণা দেন যে, পড়াশোনা তিনি থামিয়ে রাখবেন না এবং খুব দ্রুতই স্নাতক শ্রেণিতে বা অনার্সে ভর্তি হবেন।
শেফালীর এই যাত্রায় তাঁর স্বামী মোকছেদুল আলম সবসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বলে জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলা হয়েছিল যে চমৎকার কোনো ফলের প্রয়োজন নেই, শুধু পরীক্ষা দিয়ে পাস করে আসলেই হবে, কারণ এর মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণেও কিছু অবদান রাখা সম্ভব।
স্ত্রীর এই পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে স্বামী মোকছেদুল আলম ঘরের দৈনন্দিন নানা কাজে নিয়মিত সাহায্য করেছেন, যাতে তিনি পড়ালেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ পেতে পারেন।
মায়ের এমন অভাবনীয় ও বিরল সাফল্যে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে শেফালীর বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান সন্তান হিসেবে অভিহিত করেন। মায়ের এই গ্র্যান্ড সাকসেসে তিনি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়েছেন, সেই খুশির অনুভূতি কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা