
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফরিদপুরে একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় শান্তিনিবাসের প্রবীণ বাসিন্দাদের সান্নিধ্যে কাটিয়ে দেওয়া হয় একটি আনন্দঘন সময়। এই উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ও বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শহরের টেপাখোলা এলাকার সরকারি সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত শান্তিনিবাস প্রাঙ্গণে নির্ধারিত কর্মসূচিটি শুরু হয় নির্দিষ্ট দিনে বিকেল চারটার দিকে।
আয়োজনের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংবাদকর্মী প্রবীর কান্তি বালা। তিনি জানান, আগামী চার নভেম্বর সংবাদমাধ্যমটির আটাশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে এবং এই উপলক্ষকে সামনে রেখেই আজকের এই পিঠা উৎসব।
অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের দুঃখের কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ফেলেন ওই কেন্দ্রের বায়ান্ন বছর বয়সী বাসিন্দা শেখ সাজ্জাদ হোসেন। তিনি একসময়ে সরকারি দপ্তরের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর দুই পুত্র ও চার কন্যাসন্তান রয়েছে।
সন্তানদের বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাননি এই প্রবীণ। নিজের ছয় তলার ভবনটি উত্তরাধিকারীদের নামে লিখে দেওয়ার পর গত নয় বছর নয় মাস ধরে তিনি এই প্রবীণ নিবাসে বসবাস করে আসছেন। এমন আয়োজন দেখলে তাঁর আপনজনদের স্মৃতি মনে পড়ে যায় বলে জানান তিনি।
আরেক বয়স্ক নারী নূর জাহান বেগম নিজের জীবনের মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দেন। উনসত্তর বছর বয়সী এই নারী জন্মসূত্রে হাড়োকান্দির অধিবাসী হলেও তাঁর বিবাহ হয়েছিল অন্য এক গ্রামে।
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ষাট দিনের মাথায় সম্পত্তির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তাঁর স্বামী নিহত হন। এরপর পিত্রালয়ে ফিরে এলেও বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাঁকে ঘরছাড়া হতে হয়।
উপস্থিত অতিথিদের জন্য রকমারি স্বাদের পিঠার আয়োজন করা হয়েছিল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চিতই, পাটিসাপটা, অন্দশা, তালের বড়া, পাকান এবং ভাপা পিঠা।
খাবারের সঙ্গে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নিরাপদ পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় সরবরাহ করা হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে বিখ্যাত দুটি গান গেয়ে শোনান সংগঠনের সদস্য গামছা কাজল। তাঁর কণ্ঠে প্রখ্যাত গানগুলোর মধ্যে ছিল বিখ্যাত সেই জননী ও সন্তান বিষয়ক বাউল গান।
আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন সহিদ উল্লা, মফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম এবং অজয় দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজাউল করিম, মানিক কুন্ডু, পলাশ সাহা, এহ্তে শাম শাওন ও শ্যামল মন্ডলসহ অন্যান্যরা।
সংগঠনের সহসভাপতি মানিক কুন্ডু জানান, বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে একটি সেবামূলক কাজ করার নির্দেশনা ছিল। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই প্রবীণদের নিয়ে এই পিঠা উৎসবের রূপায়ন করা হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।