
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দুটি পৃথক গ্রামে ক্ষিপ্ত একটি শেয়ালের অতর্কিত আক্রমণে নারী ও পুরুষসহ অন্তত আটজন সাধারণ মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আক্রমণকারী শেয়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করতে সক্ষম হন।
তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত নারী সদস্য রেশমা খাতুন এই সন্ত্রাসী শেয়ালের হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, হিংস্র এই প্রাণীটির কামড়ে আহত প্রত্যেকটি রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কাবের আলী সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, একই শেয়ালটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দুটি গ্রামের একাধিক সহজ-সরল মানুষকে অতর্কিতে কামড়ে জখম করে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে হিংস্র ওই শেয়ালটিকে ধাওয়া করে মেরে ফেলেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমান পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান যে, শেয়ালের ভয়াবহ কামড়ে আহত মোট আটজন ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
হাসপাতালে নিয়ে আসা ওই সমস্ত রোগীদের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও উল্লেখ করেন যে, আহত আটজনের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোট পাঁচজনকে সুস্থ বিবেচনায় নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, শেয়ালের কামড়ে জখম হওয়া আরও দুজন রোগী বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা