
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় খাবার প্রস্তুত করার সূত্র ধরে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে বচসার একপর্যায়ে ধারালো কাঁচির আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া এক কিশোর শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ১৯ অক্টোবর রাতে সংঘটিত এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মারামারির ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পিয়াল হাসান জানান যে, তিনি গোলমালের শব্দ শুনে পরিস্থিতি শান্ত করতে সামনে এগিয়ে গেলে তাঁকেও প্রতিপক্ষের লোকজন শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার বানায়। এই সংঘাতে অভিযুক্ত আলমগীরের ভাই শিমুল এবং তাঁর দুই ভাতিজা নাজিম ও নাদিম ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী নিরবকে বেদম প্রহার করতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি যখন চরমে পৌঁছায়, তখন শিমুল নামের ওই ব্যক্তি সরাসরি নিরবের গলার ভেতরে কাঁচি ঢুকিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু সময় পর ভুক্তভোগীর পিতা নিজ বাসায় ফিরে এলে তাঁকেও হামলাকারীদের মারধরের শিকার হতে হয় বলে জানা যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে ত্বরিত গতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত ২২ অক্টোবর তাঁকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান।
মোহাম্মদপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, গত ১৯ মে মাসের উনিশ তারিখ রাতে অন্ন রান্না নিয়ে সৃষ্ট হাঙ্গামার জেরে নিরব গলার অংশে কাঁচিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তার প্রাণহানি ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন যে, এই হামলার পরপরই নিরবের বাবা এনায়েত মুন্সি বাদী হয়ে চারজনকে নির্দিষ্ট করে থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিশোর নিরবের মৃত্যুর ফলে ওই অভিযোগপত্রটি পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আলমগীর নামের একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা