
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার জাবরা বাজারে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে নয় দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা। সমাপনী দিনে আয়োজিত বিশেষ লালনসন্ধ্যায় আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক দর্শক।
এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেছিলেন সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা বা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বানিয়াজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক এস আর আনসারী বিল্টু। এ ছাড়া মাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার উদ্দিন আহমেদ বিন্দুসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের শেষ দিন লালনসন্ধ্যা পর্বে আধ্যাত্মিক ও মরমি গান গেয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন বারামখানা লালন ব্যান্ডের বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা শিল্পী। তাঁদের মধ্যে সুমধুর কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন জুঁই বাউলা, টুকটুকি বাউল, মুক্তা পারভীন এবং সুবর্ণা পারভীন। পুরো সমাপনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন মো. নিবীর খান।
আয়োজক কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অর্থাৎ সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার উদ্দিন আহমেদ বিন্দু মেলার মূল্যায়ন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকে জানান যে বর্তমান যুগে মানুষের বিনোদনের উপায় ও ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
তাঁরা আরও উল্লেখ করেন যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে নানা ধরনের বিনোদন মাধ্যম এখন মানুষের হাতের নাগালেই রয়েছে, তবুও গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের মন থেকে বাউলগান ও লোকজ মেলার প্রতি চিরায়ত আকর্ষণ বিন্দুমাত্র কমে যায়নি। জাবরা বাজারের এই নয় দিনব্যাপী বিশাল মিলনমেলা তারই এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের কেউ এসেছিলেন শুধু মনের টানে গান শুনতে, কেউ এসেছিলেন পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখতে, আবার অনেকে এসেছিলেন প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সম্পন্ন করতে।
উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষের কাছে এই মেলার লালনসংগীত কেবল বিনোদন ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল নিজেদের অন্তরের সঙ্গে নিজেদের লুকানো দেখা হওয়ার এক গভীর ও অপূর্ব উপলক্ষ।
সূত্র: আজকের পত্রিকা