
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্য থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট পাসের গড় হার হিসাব করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এ বছর সম্পূর্ণ সিলেবাস এবং পূর্ণ নম্বরের ভিত্তিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়।
ফলাট পর্যালোচনার পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, দুই দশকেরও বেশি সময় পর অর্থাৎ ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় এত কম পাসের হার রেকর্ড হলো। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অবশ্য এর বিপরীতে মহামারীকালে ২০২০ সালে বিশেষ পরিস্থিতিতে অটোপাসের মাধ্যমে শতভাগ শিক্ষার্থী সফলতার মুখ দেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০২১ সালে পাসের হার রেকর্ড গড়ে ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল।
এবারের ফলাফলের গভীরে গেলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি হোঁচট খেয়েছেন ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে। এই দুটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের মোট সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জনে। এর মধ্যে শুধু ইংরেজি বিষয়টিতেই ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, আর আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী।
বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কেবল ঢাকা বোর্ড বাদ দিলে বাকি আটটি বোর্ডের কোনোটিতেই ইংরেজিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। সব মিলিয়ে এই বিষয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার কিছুটা ভালো হয়ে ৭৩ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে।
বাকি আটটি আঞ্চলিক বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং যশোরে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বরিশালে ৫৪ দশমিক ০৮ শতাংশ, সিলেটে ৬৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৯ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে সাফল্যের সঙ্গে পাস করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা