
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে চেষ্টা চলছে, তাতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে আরব দলগুলোর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নানা শর্ত ও জটিলতা সামনে এসেছে।
মোসাওয়া সেন্টারের পরিচালক ফারাহ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আরব দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলার লক্ষ্য নিয়েই মূলত এই ধরনের শর্ত ও পূর্বশর্তগুলো তৈরি ও উপস্থাপন করা হয়েছে।
তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব শর্তের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সিংহভাগই একেবারেই নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও ইসরায়েলি নেসেটের বা সংসদের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা বহাল ছিল।
সংসদের সদস্যদের আগে থেকেই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রতি সমর্থন জানানোও তাদের জন্য বাধ্যতামূলক।
এছাড়া বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে যেকোনো উপায়ে বা যেকোনো ধরনের সমর্থন দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে ফারাহ মনে করেন, উপস্থাপিত এসব শর্তের মাঝে আইনের চোখে পূর্ণ সমতা এবং আরব নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো যথেষ্ট অস্পষ্ট।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, ইসরায়েলের প্রচলিত ব্যবস্থায় কিবুতজ ও অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজনের নিজেদের আলাদা বেসামরিক ও সেবা প্রদানের সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আরব সম্প্রদায়ের সাধারণ নাগরিকেরাও দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং নিজেদের নিজস্ব সমাজের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক ও সেবামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী।
কিন্তু সমস্যা হলো, তাদের নিজেদের সেই কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করার মতো প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বা পর্যাপ্ত সুযোগ নেই বললেই চলে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, দেশের আরব নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থাগুলো সরকারি বরাদ্দের মাত্র দুই শতাংশ আর্থিক ভর্তুকি পেয়ে থাকে।
ফারাহ সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আইজেনকট কিংবা বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়, তবে আরব দলগুলো অবশ্যই তাতে অংশ নেবে।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি মনে করেন যে, দেশের উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল এবং কঠোর বিরোধিতার কারণে যৌথভাবে আরব-ইসরায়েলি সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
আইজেনকট যদি শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যৌথ সরকার গঠনের উদ্যোগ নেন, তবে তাঁর নিজের জীবন পর্যন্ত তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফারাহ।
এই সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রেক্ষাপট বোঝাতে গিয়ে তিনি ১৯৯৫ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়া ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক রবিনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা