
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ইউকিউ বা ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ হাজার ১৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশই হলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, যার ফলে পুরো ক্যম্পাস জুড়ে একটি বর্ণিল ও বহুসাংস্কৃতিক আবহ গড়ে উঠেছে।
যদিও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সেখানে এই দেশের শিক্ষার্থীদের একটি সক্রিয় ও সুসংগঠিত উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে আন্তর্জাতিক ছাত্রসংগঠনের রেজিস্টারে একটি রেজিস্টার্ড সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে।
শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশ এবং পঠনপাঠন সহজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, প্রাচীন নিদর্শনসংবলিত জাদুঘর এবং খেলাধুলার নানা আয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ছাড়াও নিজেদের পছন্দমতো যুক্ত হওয়ার জন্য রয়েছে অসংখ্য ক্লাব ও বিভিন্ন ধরনের ছাত্রসংগঠন।
শিক্ষা শেষে এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে, কারণ ইউকিউর প্রখ্যাত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকায় নাম রয়েছে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পিটার ডোহার্টির। এই তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী গভর্নর জেনারেল ডেম কুয়েন্টিন ব্রাইস এবং বিশ্বখ্যাত অস্কারজয়ী প্রতিভাবান অভিনেতা জিওফ্রে রাশ।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় আর্থিক বৃত্তির সুযোগ ও সহায়তার ব্যবস্থা। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স স্কলারশিপের আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা তাদের প্রতি সেমিস্টারের টিউশন ফিতে সরাসরি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল হাই অ্যাচিভার্স স্কলারশিপের মাধ্যমে টিউশন ফির ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি অর্জনে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান গভর্নমেন্ট রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রামসহ আরও বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির সংস্থান রাখা হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী, গবেষক শিক্ষার্থীরা বার্ষিক করমুক্ত জীবনযাপন ভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন মোট ৩৯ হাজার ২২০ অস্ট্রেলীয় ডলার। আবার বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে পড়াশোনার টিউশন ফি ছাড়াও বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমা বা ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কাভারের ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এসব উচ্চশিক্ষার প্রোগ্রামে ভর্তি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভাষার দক্ষতার মানদণ্ড পূরণ করা আবশ্যক। এখানকার অধিকাংশ কোর্সেই আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা বা আইইএলটিএসে ন্যূনতম সামগ্রিক স্কোর ৬.৫ এবং প্রতিটি আলাদা অংশে অন্তত ৬.০ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অবশ্য বিষয় বা বিভাগ ভেদে এই যোগ্যতার শর্তগুলো আরও কঠোর বা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পিএইচডি গবেষকদের ক্ষেত্রে সঠিক সুপারভাইজার বা তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন করা এবং সময়মতো প্রাথমিক এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট বা ইওআই জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির চূড়ান্ত অফার লেটার পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত সাবক্লাস ৫০০ স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। এই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অফার লেটার দিয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যবিমার শর্ত পূরণ করা দরকার।
এছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া সফল করতে আবেদনকারীকে নিজ আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণ করতে হবে এবং একই সঙ্গে একজন প্রকৃত ও জেনুইন শিক্ষার্থী হিসেবে দেশটির সরকারের সব শর্ত সফলভাবে পালন করতে হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা