
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পুলিশ বাহিনীর ভ্রমণ ভাতা বা টিএ বিলের ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি তহবিল আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ বারো মাস ধরে পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং জেলা হিসাবরক্ষণ দপ্তরের একটি সিন্ডিকেট গোপনে পুলিশ সুপারের নিজস্ব কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে এই বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি চালিয়ে আসছিল। গত আগস্ট মাসের উনিশ তারিখ সকালে এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদের গোচরীভূত হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলাম এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলমকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর গত ছাব্বিশ আগস্ট চার সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় যারা এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে। তদন্ত পর্ষদের মুখোমুখি হয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত রাজিবুল ও ফিরোজের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত অডিটর ফিরোজ আলমকে বগুড়া থেকে বদলি করে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এর পাশাপাশি মহাহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তরের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মামুন উল মান্নানের নেতৃত্বে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করা হয়। এই বিশেষ কমিটির সদস্যরা সম্প্রতি বগুড়ায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনাটির নিবিড় তদন্ত সম্পন্ন করেন।
বগুড়া জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান সরকার গণমাধ্যমকে জানান যে তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্ত অডিটর ফিরোজ আলমকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দাপ্তরিক কাজে চরম অবহেলা প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে হিসাবরক্ষণ দপ্তরের আরও চারজন কর্মীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন যে সরকারি তহবিল তছরুপের এই ঘটনায় এককভাবে জড়িত ছিলেন অডিটর ফিরোজ আলম। তবে তিনি এখন পর্যন্ত আত্মসাৎ করা একটি টাকাও সরকারি কোষাগারে ফেরত দেননি। অন্যদিকে, বাকি চার কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ না থাকলেও দায়িত্ব পালনে মারাত্মক অবহেলার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা