
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকায় স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এই বৈবাহিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত শনিবার দুপুরবেলা বিয়ের বাড়িতে প্রীতিভোজের আয়োজন শেষ করে নবদম্পতিকে সঙ্গে নিয়ে কনের বাড়ির লোকজন নিজেদের গ্রামের বাড়ির পানে যাত্রা শুরু করেন।
যাত্রাপথে ঐ দিন সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বরযাত্রী ও কনের স্বজনবাহী বহরটি উপজেলার কাটখাল গরুর হাট নামক নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে পৌঁছায়। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনের দিক থেকে চরকাটখাল এলাকার একজন অটোরিকশাচালক, যার নাম দয়াল মিয়া, তিনি বহরের সঙ্গে থাকা কনের একজন আত্মীয়কে সজোরে ধাক্কা দেন।
এই আকস্মিক ও উসকানিমূলক ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান কনের পক্ষের লোকজন, যার ফলে অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও বেশ কয়েকজন চালক মিলে অত্যন্ত চড়াও হন। পরবর্তীতে তাঁরা সকলে মিলে দলবদ্ধভাবে কনের পরিবার ও আমন্ত্রিত স্বজনদের ওপর অতর্কিত ও সহিংস আক্রমণ চালান বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় কনের পরিবারের সর্বমোট চৌদ্দজন সদস্য গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং শারীরিক জখমের শিকার হন।
আহতদের এই বিশাল বহরের মধ্যে একজন সক্রিয় পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাঁর নাম মো. কাউসার মিয়া বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ঘটনার আকস্মিকতা ও তীব্রতার কারণে এই সংঘাতে আহত হওয়া বাকি অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে এই হামলার তাণ্ডবের সুযোগে হামলাকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং কনের পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত স্বজনদের সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক ছিনতাই বা লুট করে নিয়ে গেছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সূত্রে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তথ্যের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা