
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মীরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক সাইফূল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মীরা দলে দলে এসে পথ আটকে অবস্থান নেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধ করতে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগের দিন শনিবারও প্রায় একই কারণে মিরপুরের দশ, এগারো ও বারো নম্বর এলাকায় পোশাকশিল্পের কর্মীরা আন্দোলনে নামে। শাহ আলী এবং কালশী অঞ্চলের কয়েকটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ও বিপণন কেন্দ্রে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর জেরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাজীঞ্জের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক আটকে দেন পোশাকশিল্পের কর্মীরা।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের শুরুতে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করলেও অল্প সময়ের মধ্যে বাইরে এসে মূল সড়কে অবস্থান নেন। এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আশপাশের অন্তত আট থেকে দশটি কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ থমকে গেছে। এর ফলে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টরের অধীন ব্যাটালিয়নগুলো গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় মাঠে নেমে দায়িত্ব পালন করছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে মূলত পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবিতে এই আন্দোলন চলমান রয়েছে। আজও সড়ক আটকে বিক্ষোভ চলায় তা সচল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সূত্র: আজকের পত্রিকা