
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের মাত্র ২৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়েছে। এই হতাশাজনক ফলাফলের পর অভিভাবক আতিকুর রহমান বাপ্পি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে তার সন্তান উত্তীর্ণ হওয়াতে তিনি খুশি। তবে এই শোচনীয় ফলাফলের দায় কেবল শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের ওপর চাপানো যায় না, এর পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও স্পষ্ট দায়িত্বহীনতা রয়েছে।
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার উল্লেখ করেছে যে, এবার সম্পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া, প্রশ্নপত্রের মান পরিবর্তনের বিষয়টি এবং প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার কারণে সামগ্রিক ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা না করাও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম একটি প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
হিজলা উপজেলার সরকারি হিজলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিন মোহাম্মাদ জানিয়েছেন, মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই দুর্বল ভিত্তির শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকে আসছে। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে নানা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি মাধ্যমিকের পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় শহরগুলোতে চলে যাওয়ার প্রবণতাও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ মনে করেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা রাজপথে প্রচুর সময় ব্যয় করেছে এবং অভিভাবক সমাজও যথেষ্ট সচেতনতার পরিচয় দেননি। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আর মনোযোগী হতে পারেনি, যা বর্তমানে একটি সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন রয়েছে।
এই বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, মূলত মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পড়াশোনার পরিবেশ ও চর্চা একেবারেই অনুপস্থিত। সেখানকার শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করে না বলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা