
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরাও নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা ভোগ করবেন। তবে ঠিক কোন তারিখ থেকে তাঁরা এই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকসমাজে কিছুটা মানসিক হতাশা বিরাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরিষ্কার করেছেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা খুব দ্রুতই নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত হতে যাচ্ছেন।
গত রোববার শিক্ষামন্ত্রী তাঁর নিজের অফিশিয়াল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি নতুন বেতনকাঠামো চালুর নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর করে প্রজ্ঞাপন বা পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর সুবাদে সরকারি চাকুরেরা অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি বিগত তিন মাসের বকেয়া অর্থও বুঝে পেয়েছেন কিংবা পাচ্ছেন। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।
বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে প্রায় ছয় লাখের অধিক শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিওভুক্ত ব্যবস্থার অধীনে রয়েছেন। এর ভেতরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত আছেন প্রায় চার লাখ জন। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৩ হাজারের বেশি।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই জনবলের বেতন ও ভাতার জন্য রাষ্ট্র প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে, যা এমপিও বা মান্থলি পে অর্ডার নামে পরিচিত। এমপিওভুক্ত এসব কর্মী তাঁদের মূল বেতনের পুরো শতভাগ সরকারি অনুদান হিসেবে পেয়ে থাকেন। এর সাথে নির্দিষ্ট কিছু ভাতাসহ চিকিৎসা ভাতাও তাঁদের প্রদান করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য যে, বিগত বছর এমপিওভুক্ত কর্মীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের পনেরো শতাংশ হারে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এর পূর্বে তাঁরা নির্দিষ্ট এক হাজার টাকা করে মাসিক বাড়িভাড়া পেতেন। তবে যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল বেশ সমৃদ্ধ, তারা এমপিও ভাতার বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে থাকে। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানেরই অবশ্য এমন আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সরকারি অনুদানের ওপরই তাঁদের নির্ভর করতে হয়, যা পে স্কেল কার্যকরে তাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবে রূপ নিলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের অঙ্ক এবং বাড়িভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্তর এবং বিষয়ভিত্তিক ভিন্নতার কারণে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে তারতম্য রয়েছে। নতুন স্কেলে তাঁরা বর্তমানে যে গ্রেডে কর্মরত আছেন, সেই অনুযায়ীই বেতন নির্ধারণ করবেন। উদাহরণস্বরূপ, বেসরকারি কলেজের প্রভাষকগণ সরকারি কলেজের প্রভাষকদের ন্যায় নবম গ্রেডেই তাঁদের মূল বেতন পাবেন।
সরকারি খাতের নতুন পে স্কেলে গ্রেড ভেদে মূল বেতন একশ থেকে একশ বিয়াল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূর্বের ন্যায় এই নতুন কাঠামোতেও মোট বিশটি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন বিশতম গ্রেডের মূল বেতন আট হাজার দুইশ পঞ্চাশ টাকা থেকে বাড়িয়ে বিশ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন বাহাত্তর হাজার টাকা থেকে উন্নীত করে এক লাখ ছাপ্পান্ন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকেই এই নতুন বেতনকাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের মধ্যে মোট তিন ধাপে এই মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে আগামী ২০২৮ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে সকল ধরনের ভাতা একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।