
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সন্ধ্যা সাতটার দৃশ্য। ঘরের কোণে রাখা স্পিকারের কাছে নয় বছর বয়সী নাঈম জানতে চাইল, আজ রাতে বৃষ্টি হবে কি না। ছদ্মনামের শিশুটির এই প্রশ্নের সুন্দর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি স্পিকারটি জানতে চাইল, সে সঙ্গে ছাতা নেবে কি না। এমন জবাবে শিশুটি খিলখিল করে হেসে উঠলেও তার মায়ের মনে সংশয় জাগল, যন্ত্রটি তবে কি সারাক্ষণ কথা শুনে যাচ্ছে।
এই যন্ত্রটিই হলো স্মার্ট স্পিকার বা ঘরের কথা শোনা সহকারী। অতীতে এই ডিভাইসগুলো কেবল নির্দিষ্ট ও বাঁধা কমান্ড বুঝতে পারত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এগুলোতে জেনারেটিভ এআই যুক্ত হওয়ায় প্রযুক্তির রূপ পাল্টে গেছে। বিদেশে গত জুনে বাজারে আসা গুগলের জেমিনাই-চালিত হোম স্পিকার কিংবা অ্যামাজনের অ্যালেক্সা প্লাসের মতো যন্ত্র এখন স্বাভাবিক ভাষায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারে। মাল্টি-টাস্কিংয়ের এই ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ঘরের বাতি জ্বালানো, কোনো বিষয়ের রিমাইন্ডার দেওয়া এবং ক্যালেন্ডার সাজানোর মতো কাজ। যদিও এই আধুনিক সুবিধাগুলোর সবকটি এখনো বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা পান না।
এই প্রযুক্তির ব্যবহার বড় ধরনের ঝুঁকির জন্ম দিচ্ছে। ঘরের ভেতর সারাক্ষণ এআই সচল থাকার অর্থ হলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথাবার্তাও রেকর্ড বা ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। অন্যদিকে, এই উন্নত সুবিধাগুলো উপভোগ করার জন্য ব্যবহারকারীকে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফিও প্রদান করতে হয়। এ বিষয়ে প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডিভাইসের আলোর বলয় দেখে সহজেই বোঝা সম্ভব স্পিকারটি কখন কথা শুনছে। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য যন্ত্রটিতে মাইক্রোফোন বন্ধ করার বাটনও রাখা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কিছু সুনির্দিষ্ট করণীয় মেনে চলা উচিত। প্রথমত, ঘরের ভেতর কোনো সংবেদনশীল বা গোপনীয় আলাপের সময় অবশ্যই স্পিকারের মাইক্রোফোন বন্ধ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত কিংবা মাঝেমধ্যে ডিভাইসে সংরক্ষিত ভয়েস রেকর্ডিংয়ের ইতিহাস বা হিস্ট্রি মুছে ফেলতে হবে। তৃতীয়ত, ব্যাংকের পিন নম্বর কিংবা অত্যন্ত গোপনীয় আর্থিক তথ্য কখনোই মুখে উচ্চারণ করে বলা যাবে না।
ঘরের মূল দরজা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্রগুলো কান খোলা রেখে সবকিছু শুনছে কি না, তা জানার পূর্ণ অধিকার ব্যবহারকারীর রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এসব সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা—উভয় বিষয় একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব, যদি মাইক্রোফোন বন্ধ বা চালু করার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্যবহারকারীর নিজের হাতের মুঠোয় থাকে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।