
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার মন্তব্য করেন যে, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বর্তমান সরকার এই নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়ে জনগণের সব গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে স্পিকার জানান, গ্লোবাল স্কেলে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশ বরাবরই অগ্রগামী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন নিয়ে এ সময় বিশেষ আলোচনা হয়। স্পিকার স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এই সংকট সমাধানে শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থনও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, নরওয়েসহ ইউরোপ অঞ্চলের অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করতে পারে।
উত্তরে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘমেহাদী অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কন্টিনজেন্ট ও শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে।
রাষ্ট্রদূত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশের চলমান সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সার্বিক মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রগুলোতে নরওয়ে সরকার সবসময় সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতে একটি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন করার বিষয়ে তাঁরা ঐকমত্যে পৌঁছান। পাশাপাশি, উভয় দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদের পারস্পরিক সফর বিনিময় এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐতিহাসিক নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও উভয়ের মধ্যে ইতিবাচক মতবিনিময় হয়।
আলোচনার একপর্যায়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রসঙ্গও স্থান পায়। বিশেষ করে চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ জুলাই সনদ নিয়ে উভয়ের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও জ্বালানি খাতের বিকাশের কথা বিবেচনা করে এ সময় ভোলা জেলাসহ দেশের পুরো সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের কাজে অংশ নিতে নরওয়ের বিশেষায়িত কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান স্পিকার।
উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে নরওয়ে দূতাবাসের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা