
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পাবলিকের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মাসের শুরুর দিকে রাস্তা মেরামতের অজুহাত দিয়ে প্রথমে দশ থেকে পনেরোটি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরবর্তীতে বিগত সপ্তাহ থেকে চারশরও বেশি গাছ উচ্ছেদ করে রায়চাঁদ বাজারের ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাঠের মিলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ওই মিলে রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুল জাতীয় নানা গাছের বিশাল স্তূপ দৃশ্যমান রয়েছে। তাছাড়া সংলগ্ন বাগান এবং জলাশয়ের ভেতরেও কাঠের লগ ফেলে রাখা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অপসারণ করা বনজ সম্পদের সিংহভাগই নির্দিষ্ট মিল এবং তার আশেপাশের বাগিচায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে জনৈক মনির এই বৃক্ষগুলো কিনে নিজের দখলে রেখেছেন।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিসেট্রেট সহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা পরিদর্শনে আসছেন এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাঠকলের মালিক চাবি লাগিয়ে পালিয়ে যান।
এই ব্যাপারে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক রবিবার দুপুরের দিকে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ পাওয়ার পর গত বুধবার আটাশে অক্টোবর তাঁরা সরজমিন পরিদর্শন করেছেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কাঠগুলো কোন সরকারি দপ্তরের অধীনে ছিল এবং কোন কুচক্রী মহল এগুলোর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এই ঘটনা গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গাছ কাটার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিজের বক্তব্য জানিয়ে বলেন, সামনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার মানহানি করার জন্য এই সমস্ত অসত্য প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা