
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মাথা ধোয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেন কোরিয় নাগরিকেরা। স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় অক্ষুণ্ন রাখতে তাঁরা কখনোই মাত্রাতিরিক্ত গরম তরল ব্যবহার করেন না। এর পরিবর্তে সর্বদা কুসুম গরম তরল বেছে নেন।
মাথা পরিষ্কারের সময় দেহভঙ্গি কেমন হবে, তারও সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে তাঁদের মধ্যে। চুল পরিষ্কারের সময় তাঁরা মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখেন।
এই ভঙিমার ফলে ঘাড়ের অংশ, কানের পেছনের দুর্গম স্থান ও মাথার পশ্চাদ্ভাগে খুব সহজেই ফেনা পৌঁছে যায়। এর মাধ্যমে মাথার ত্বক নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।
ত্বক পরিষ্কার করার সময় তাঁরা কখনোই আঙুলের নখ ব্যবহার করেন না। বরং আঙুলের নরম অংশ কিংবা নরম সিলিকননির্মিত ব্রাশ দিয়ে বৃত্তাকারে আলতোভাবে ম্যাসাজ করেন।
এই মৃদু ম্যাসাজ মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি এটি সারা দিনের সব ধরনের মানসিক ও শারীরিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছানো সহজ হয়। এই পদ্ধতি সামগ্রিক চুল সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চুল পরিচর্যার ক্ষেত্রে কোরিয়ায় সময়ের ওপর ভিত্তি করে প্রসাধন ব্যবহারের দারুণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। সকালে নাকি রাতে চুল ধোয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ধরনের কেয়ার রুটিন প্রস্তুত করা হয়।
বাতাসে ভেসে বেড়ানো ধুলাবালির অপ্রীতিকর গন্ধ দূর করতে এবং চুল সতেজ রাখতে তাঁরা পারফিউম ব্যবহার করেন। এ ছাড়া স্ক্যাল্প টনিক ব্যবহার করাও সে দেশের নারীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।
চুল ভেতর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে কেবল নামীদামি প্রসাধন ব্যবহারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে কোরিয়ানদের মতো যত্ন শুরু করা যেতে পারে।
নিয়মিত সঠিক পন্থায় যত্ন নিলে যেকোনো চুল গোড়া থেকে সতেজ হয়ে উঠতে পারে। এতে চুল আরও ঘন ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা