
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ঘটনা ঘটেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীরা যখন তথ্য সংগ্রহ করতে যান, তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সহযোগিতা তো দূরের কথা, বরং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ আবু শহীদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আক্ষেপ করে উল্লেখ করেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ আলী আবির তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য তথ্য চাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের একটি মৌলিক অধিকার। একজন প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের মুখ থেকে এমন অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশার।
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যম পরিচালনার পরিবেশের জন্য মারাত্মকভাবে উদ্বেগজনক। সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতায় এই ধরনের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন এই মানবাধিকারকর্মী।
বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের অসংযত আচরণ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার একটি সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ওই বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে, পুরো ঘটনার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে দেশের পুরো সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এই সমগ্র বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে যোগাযোগ করা হলে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা গণমাধ্যমকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, তিনি সবসময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে থাকেন যেন গণমাধ্যমকর্মীরা থানায় আসলে তাঁদের প্রাথমিক তথ্য দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও মন্তব্য করেন যে, ওই কর্মকর্তা ঠিক কী কারণে এমন অনভিপ্রেত আচরণ করলেন তা তাঁর বোধগম্য নয়। তবে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সকলকেই কড়া নির্দেশনা দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন, যেন সংবাদকর্মীরা তথ্য প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা