
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পায়রা সমুদ্রবন্দরে বিদেশি জলযানের নোঙর করার প্রবণতা ক্রমশ নিম্নমুখী। এ পরিস্থিতির পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধু পোর্ট অথরিটির একক প্রচেষ্টার ওপর পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া নির্ভরশীল নয়।
এই পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে কাস্টমস হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং লাইনগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের বর্তমানে খুলনা ও বরিশাল কাস্টম হাউসের মাধ্যমে যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
সেবা গ্রহীতাদের এই বন্দরে টিনট করতে এবং উৎসাহিত করতে বন্দরের কাছাকাছি স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে যাতায়াত ব্যবস্থার বিভিন্ন অন্তরায় বা সড়ক যোগাযোগের সমস্যার দিকটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের একটি বড় অংশ এখনো দুই লেনের রয়ে গেছে। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে সড়কপথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
যদিও ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্পটি ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করেছে, তবে এর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
পাশাপাশি, রাজধানী ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর যাতায়াত বা পণ্য আনা-নেওয়ার পথে মোট ছয়টি ভিন্ন পয়েন্টে টোল বা মাশুল দিতে হয়।
একাধিক স্থানে টোল আদায়ের কারণে সামগ্রিক পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণ এবং আর্থিক খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাড়তি সময় ও খরচ পায়রা বন্দরের সার্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
এদিকে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি দাপ্তরিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে আলোচনার সময় দেশের সার্বিক স্বার্থ সমুন্নত রেখে নির্দিষ্ট সময়সীমার মাঝেই সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা