
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আরব-ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’–এর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান।
আসন্ন দিনগুলোতে সম্ভাব্য একটি বিকল্প জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি জয়েন্ট লিস্টের অন্যতম দুই প্রভাবশালী নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমাদ তিবির সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন।
উল্লেখ্য যে, হাদাশ, তাআল ও বালাদ এই তিনটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট মূলত ইসরায়েলে বসবাসরত আরব জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও স্বার্থরক্ষার বিষয়টিকে সামনে রেখে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
এই নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের ক্ষমতাচ্যুত করতে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে গঠিত বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলের এই গুরুত্বপূর্ণ জোটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন ইয়ার গোলান, যিনি এর আগে আরেকটি আরব দল রাআমের চেয়ারম্যান মনসুর আব্বাসের সাথেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছিলেন।
নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে একমাত্র ইয়ার গোলানই প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করা উচিত।
এর আগে জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের শীর্ষ নেতা আহমাদ তিবি বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে রাজনৈতিক সাহসিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
তিনি আইজেনকটকে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের তাগিদ দিয়ে বলেছিলেন যে, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে নেসেটে ফিলিস্তিনি আরব প্রতিনিধিদের সাথে কাজ না করার কোনো গণতান্ত্রিক ভিত্তি বা যুক্তি নেই।
সে সময় তাআল পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ তিবি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির সাথে কোনো ধরনের জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দিয়েছিলেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় আইজেনকট যদি এগিয়ে আসেন, তবে তাঁরা বাইরে থেকে সেই সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন দিতে প্রস্তুত আছেন।
ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট জিতেছে ১১টি আসন এবং মনসুর আব্বাসের রাআম দল পেয়েছে ৮টি আসন।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলের এই আরব দলগুলোর মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াল ১৯টিতে, যা সরকার গঠন বা পতনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ঝুলিতে গেছে ৪৮টি আসন।
এই বিরোধী জোটে থাকা ইয়ার গোলানের দল দ্য ডেমোক্র্যাটস নির্বাচনে মোট ৮টি আসন লাভ করেছে।
বর্তমানে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য যে জাদুকরী ৬১টি আসন প্রয়োজন, তা কোনো পক্ষেরই এককভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
এর ফলে আরব দলগুলোর সক্রিয় ও দৃশ্যমান সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিদায় নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরকার গঠন করা বিরোধীদের জন্য একরকম অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।