
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের ছবির নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক এক যুবক শেষ পর্যন্ত আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত দিনের রিমান্ড মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয় এবং তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বিচারকের সামনে অপরাধ স্বীকার করে বয়ান দেন। জবানবন্দি গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেছেন।
তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই আসামিকে বিচারকের মুখোমুখি করেন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার উইংয়ের একজন উপপরিদর্শক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদালতকে জানান যে আসামি নিজের ইচ্ছাতেই অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তার সেই স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করার একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের যথার্থতা বিচার করে আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করার অনুমতি প্রদান করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে আসামি আদালতে দেওয়া বয়ানে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়েছে এবং তিনি নিজেও অনেক বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে এবং গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে সেই প্রাপ্ত তথ্যগুলো এখনই প্রকাশ করা সমীচীন হবে না বলে জানান তিনি।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে রিমান্ডের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তাকে নির্দিষ্ট সময়েই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। দুপুরের পর শেষবেলায় তিনি বিচারকের খাসকামরায় জবানবন্দি প্রদান করেন। এই আইনি প্রক্রিয়ায় তিনিই একমাত্র এজাহারনামীয় ব্যক্তি হিসেবে অভিযুক্ত আছেন এবং তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত পঁচিশে অক্টোবর তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার আবেদন করেছিল। সেই সময় আদালতের কাছে পাঠানো পুলিশি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে মামলার অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচন করা এবং দেশের সরকারপ্রধানকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার কোনো ষড়যন্ত্র চলছে কি না, তা বের করার জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
রিমান্ড আবেদনে আরও তুলে ধরা হয়েছিল যে এই নাশকতামূলক চিন্তার পেছনে বড় কোনো সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র, দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহকারী বা স্নাইপার লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন কি না কিংবা এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করাই ছিল রিমান্ডের মূল উদ্দেশ্য।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায় যে গত একুশে অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আঞ্চলিক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বাসের ছবি আপলোড করা হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে সরকারপ্রধানের চলাচলের জন্য নির্ধারিত বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ি বাদ দিয়ে স্থানীয় একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহারের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ওই ছবির নিচের মন্তব্য বাক্সে একটি নির্দিষ্ট আইডি থেকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও হুমকিস্বরূপ একটি বাক্য লেখা হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেই আইডি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহী জেলার পবা থানার একটি নির্দিষ্ট গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযאןের সময় তার পিতাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো সম্পৃক্ততা না মেলায় তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পুলিশি রিমান্ডের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে ওই ডিভাইসটি ঘেঁটে বিভিন্ন ভার্চুয়াল পেজ ও গ্রুপে নিয়মিত উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করার বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার উইংয়ের অপর একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানী ঢাকার একটি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।