
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের এই অতিরিক্ত সময়কে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায় dialogues-এর বা সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু পুরোনো বাণিজ্যসুবিধাগুলো আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে না গিয়ে, বরং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতির মোকাবিলায় এখনই সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।
নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতের কথা তুলে ধরে এই অর্থনীতিবিদ উল্লেখ করেন যে, শ্রমঘন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর সংযোজন প্রক্রিয়া, সেবা খাত এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনীতি ভবিষ্যতে দেশের চালিকাশক্তি হতে পারে।
তার মতে, বর্তমান বিশ্ববাজারে কার্বন কর আরোপ, শ্রমের অধিকার রক্ষা, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা এবং কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়গুলো দিন দিন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের আলোচনা সামনে এগোলে নানামুখী নতুন শর্ত যুক্ত হবে, যার জন্য আমাদের এখনই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
অন্যদিকে, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, এলডিসি উত্তরণের সঠিক প্রস্তুতি হিসেবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় গভীরভাবে একে অপরের পরিপূরক ও জড়িত, ফলে এদের কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করে দেখার অবকাশ নেই।
ড. নাজনীন আহমেদ জোর দিয়ে বলেন যে, এলডিসি উত্তরণের প্রধান লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক কোনো স্বীকৃতি অর্জন করার মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।
বরং এমন একটি সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে দেশে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের সাধারণ মানুষও সার্বিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে নতুন কোনো কর্মসূচি হাতে নেওয়ার চেয়ে সরকারের চলমান সংস্কারমূলক কাজগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অত্যন্ত কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি যোগ করেন যে, একমাত্র এভাবেই এলডিসি উত্তরণের সার্বিক প্রস্তুতি প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত সংবাদ সম্মেলন ও আয়োজিত মিডিয়া সংলাপে সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খানও উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রমে অংশ নেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা