
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মায়ের তরী সংগঠনের বিনামূল্যে পাঠদানের নেপথ্যে গুরুজনদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও কার্যক্রম পরিচালনা, বাদ্যসামগ্রী কেনা ও মেরামত, শিক্ষকদের পারিশ্রমিক পরিশোধ, যাতায়াত ব্যয় এবং গুরুগৃহের অবকাঠামো উন্নয়নে তহবিলের প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত তহবিলের অনুপস্থিতিতে মাঝেমধ্যে আবশ্যকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বেশ দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আর্থিক সংকটই মায়ের তরীর পথচলার প্রধান বাধা।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্যোক্তা ইউসুফ আলমগীর মনে করেন, কৃষ্টি রক্ষার্থে কেবল শিল্পী কিংবা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর একক দায় বর্তায় না; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ কর্তব্য। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, লোকসংস্কৃতি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা এলাকার নিজস্ব সম্পত্তি নয় এবং একে কেবল উৎসব কিংবা বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে আটকে রাখা অনুচিত। আর সে কারণেই মায়ের তরীর গুরুগৃহগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী সুজন কুমার বেদ জানান, নয়টি গুরুগৃহকে একটি সুসংহত সাংস্কৃতিক শিক্ষার কাঠামোর আওতায় আনা গেলে এই প্রয়াসকে আরও প্রশস্ত করা সম্ভবপর হবে। এজন্য দরকার স্থায়ী প্রশিক্ষণালয়, বাদ্যযন্ত্র, শিক্ষকদের সম্মানজনক ভাতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা। তিনি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন যে, মায়ের তরীর কর্মকাণ্ড কেবল কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ুক।
উদ্যোক্তা ইউসুফ আলমগীর আরও জানান, মায়ের তরীর লক্ষ্য কেবল খুদে শিার্থীদের গান শিক্ষাদানের মধ্যেই সীমিত নয়, বরং লোকশিল্পের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর ভেতরে ধরে রাখতে চায় এই প্রতিষ্ঠান।
বয়োজ্যেষ্ঠ লোকশিল্পী, বাউল, ভাওয়াইয়াশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী এবং লোকসংস্কৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত প্রাণগুলোর জন্য একটি ‘আনন্দ আশ্রম’ গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। জীবন সায়াহ্নে এসে যাঁরা অবহেলা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করেন, তাঁদের জন্য এই ঠিকানাটি হতে পারে নিরাপদ আশ্রয়, মর্যাদা এবং কৃষ্টি চর্চার একটি কেন্দ্র। সেখানে বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা উত্তরসূরিদের মাঝে বিতরণ করতে সমর্থ হবেন।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা হলো একটি ডিজিটাল আর্কাইভ নির্মাণ। উত্তরাঞ্চলের লুপ্তপ্রায় লোকসংগীত, শিল্পীদের কণ্ঠস্বর, বাদ্যের সুর, স্থানীয় গীতিকার ও সুরকারদের পরিচিতি, গানের পটভূমি এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতি ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ লোকসংগীত ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী স্বপ্নও রয়েছে তাঁদের।
সূত্র: আজকের পত্রিকা