
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আকাশযানে থাকা নয়জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। লাইভ এটিসি নেটওয়ার্কের রেডিও ট্রাফিক কন্ট্রোল অডিও রেকর্ডের তথ্যানুযায়ী, এই বিমান দুর্ঘটনার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই চালক আকাশযানে বরফ জমে যাওয়ার কঠিন পরিস্থিতির কথা জানান।
সে সময় বাতাসের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পাশাপাশি তীব্র ঝাঁকুনি বা টার্বুলেন্সের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঘটনার শুরুতে মিয়ামি এয়ার রুট ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারকে পাইলট জানান যে পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এর সামান্য পরেই আকস্মিক প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে পাইলট বাধ্য হয়ে জরুরি অবস্থা বা মে-ডে ঘোষণা করেন।
নিয়ন্ত্রণকক্ষে প্রেরিত ওই শেষ বার্তাটিতে চালকের চরম ভীতি ও উদ্বেগের সুর স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান যে তারা প্রতি মিনিটে দশ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছেন এবং অতিরিক্ত গতিতে বিশ হাজার ফুট নিচে পতন ঘটছে।
শেষ বার্তায় চালক আরও উল্লেখ করেন যে তারা সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে যাচ্ছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের প্রদান করা উপাত্ত অনুসারে, গ্রাউন্ড স্টেশনের সাথে সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগের মুহূর্তে বিমানটি এক লাফে ২৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।
দুর্ঘটনা কবলিত এই আকাশযানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বা ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করা সম্ভব হলে এর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে বলে তদন্তকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের বা এনটিএসবি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল সশরীরে পরিদর্শন শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা