
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হাল্লি স্টিভেন্সের আকস্মিক দলবদলের পর পরই তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মী নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান কার্টিস হার্টেল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, স্টিভেন্সের এই পদক্ষেপ এটাই প্রমাণ করে যে এতদিন ধরে তিনি যেসব আদর্শের কথা বলে আসছিলেন, সেগুলো তিনি নিজেই জলাঞ্জলি দিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান নেতা চাক শুমার স্টিভেন্সের এমন সিদ্ধান্তকে একটি অত্যন্ত গর্হিত ও চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ডেট্রয়েট শহরের সাধারণ ডেমোক্রেটিক ভোটারদের মধ্যেও স্টিভেন্সের এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সামার লরেন্স নামের একুশ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, তিনি বিষয়টি কিছুতেই অনুধাবন করতে পারছেন না এবং এটি দলের প্রতি স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা, কারণ একজন রিপাবলিকান নেতার রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে স্টিভেন্সের মতাদর্শ কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যদিও এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ আগামী নির্বাচনে ভোটের ফলাফলের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই যথেষ্ট সন্দেহের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
বিশ্লেষক মহলের অভিমত হলো, মিশিগানের এই সিনেট প্রাইমারি নির্বাচন এবং দুই নেতার মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব এটিই স্পষ্ট করে তুলেছে যে, ২০২৮ সালের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতরে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী ধারার মানুষদের মধ্যে আদর্শিক দূরত্ব কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের শাসনক্ষমতা নিজেদের মুঠোয় ফিরিয়ে আনতে হলে ডেমোক্রেটিক দলকে এই অন্তর্বর্তীকালীন লড়াইয়ে অন্তত চারটি অতিরিক্ত আসনে জয়লাভ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মিশিগানের মতো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো আসন যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা ডেমোক্র্যাটদের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা