
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সব শ্রমিককে অবিলম্বে কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের মনোনীত প্রতিনিধি বাবুল আখতার।
সোমবার রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডে তাঁদের কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে দেশের সাধারণ শ্রমজীবীরা আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই বর্ধিত হারে বেতন হাতে পেয়ে যান।
তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে অহেতুক বা অপ্রয়োজনীয় কোনো ধরনের বিলম্ব ঘটার বিন্দুমাত্র অবকাশ বা কারণ নেই।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকপক্ষের অন্য অন্যতম স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটির প্রতি সমর্থন জানান।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট শ্রমিকনেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন এবং সুলতানা বেগমসহ আরও অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে চলমান বিভিন্ন মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অজুহাত দেখিয়ে বেশ কিছু সাধারণ শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাকে পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক আটক বা গ্রেপ্তার করার তীব্র নিন্দা জানান বাবুল আখতার।
তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, যারা কেবল নিজেদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের নির্বিচারে মুক্তি দিতে হবে।
পাশাপাশি আটককৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল ধরনের হয়রানিমূলক মামলা এবং আইনি পদক্ষেপ নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করারও জোর দাবি জানান তিনি।
পোশাক খাতের সকল শ্রমিক ভাইবোনকে সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বোর্ডে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় তাঁরা সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন।
কোনো রকম একক বা খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত না নিয়ে দেশের সকল শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ কর্মীর মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সকল কারখানার ইউনিয়ন এবং শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও সম্মিলিত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
সরকার ও মালিকপক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত করতে হলে নানা বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব ব্যয়, বাজারে চলমান মূল্যস্ফীতির হার, পরিবারের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা এবং সার্বিক শিল্প পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হবে।
উল্লেখ্য যে, পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতকাল রোববার সরকার ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন মজুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করেছে।
ইতিমধ্যেই উক্ত বোর্ডের জন্য সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকদের নিজ নিজ পক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে পোশাকশ্রমিকেরা মজুরি বাড়ানোর যৌক্তিক দাবিতে নানা ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
রাজধানী ঢাকাসহ এর আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা নিজেদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নবগঠিত এই মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে।
বোর্ডের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অপরদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন বিজিআইডব্লিউএফ সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার এবং শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন।
এ ছাড়াও বোর্ডে নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।