
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
এমবেডেড সিম বা ই-সিম হলো মোবাইল ডিভাইসের মাদারবোর্ডে আগে থেকেই স্থায়ীভাবে বসানো একটি ক্ষুদ্রাকৃতির চিপ। সনাতন মাধ্যমের মতো এটি ডিভাইস থেকে আলাদা করে অন্য কোনো সেটে স্থানান্তর করার প্রয়োজন পড়ে না। ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাহায্যে সরাসরি এই চিপের ভেতরেই নতুন প্রোফাইল ইনস্টল করে মোবাইল অপারেটরের সংযোগ সচল করা যায়।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক জোট জিএসএমএ এই আধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের প্রযুক্তিগত মান ঠিক করে থাকে। বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়ার খ্যাতিমান ব্র্যান্ড যেমন অ্যাপল, গুগল এবং স্যামসাংয়ের বিভিন্ন হ্যান্ডসেটে এই বিশেষ চিপ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
জিএসএমএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫ সালের সমাপনী নাগাদ বিশ্বজুড়ে মোট সেলুলার কানেকশনের প্রায় ৫ শতাংশ ই-সিমের মাধ্যমে হওয়ার কথা ছিল। আগামী ২০২৬ সালের সমাপ্তিতে এই অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান জুনিপার রিসার্চের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত ২০২৪ সালে বিদেশ ভ্রমণের সময় এই আধুনিক সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় চার কোটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৮ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী এই গ্রাহক সংখ্যা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় ২১ কোটি ৫০ লাখে গিয়ে ঠেকতে পারে। সাধারণ ফিজিক্যাল সিম ব্যবহারের জন্য কার্ডটি ফোনের নির্দিষ্ট ট্রেতে স্থাপন করতে হয় এবং নতুন সংযোগের প্রয়োজনে দোকান থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে হয় কিংবা ডেলিভারির অপেক্ষা করতে হয়।
ই-সিমের ক্ষেত্রে গ্রাহককে এই ধরনের কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। কারণ ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই ফোনের ভেতরের স্থায়ী চিপে নতুন নেটওয়ার্কের তথ্য যুক্ত করা সম্ভব।
তাছাড়া এই প্রযুক্তিতে ফিজিক্যাল কার্ড হারিয়ে যাওয়ার বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনো প্রকার ঝুঁকি থাকে না। কোনো অপারেটর থেকে প্যাকেজ ক্রয়ের পর গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড অথবা অ্যাকটিভেশন লিংক সরবরাহ করা হয়।
মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে এই কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে সুরক্ষিত সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোফাইল সরাসরি ডাউনলোড হয়ে ভেতরের চিপে যুক্ত হয়। সাধারণত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সুব্যবস্থা থাকলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।